Print Date & Time : 29 June 2022 Wednesday 12:40 am

লোডশেডিংয়ে সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় শেরপুরের কৃষক

 

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: লোডশেডিংয়ে বোরো মৌসুমের শুরুতেই সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শেরপুরের কৃষক। বোরোক্ষেতে সেচের অভাবে কোথাও কোথাও মাটি ফেটে গেছে। কচি চারা শুকিয়ে হলুদ হতে শুরু করেছে। খবর বিডিনিউজ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দিন জানান,  শেরপুরে এ বছর ৮৯ হাজার ৫৯৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৮৮ হাজার হেক্টরে চাষ করা হয়েছে। মোট জমির ৪৩ হাজার হেক্টর রয়েছে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রের আওতায়। বাকি ৪৬ হাজার ৬০০ হেক্টর আবাদ হচ্ছে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের আওতায়। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রের আওতায় থাকা ৪৩ হাজার হেক্টর জমির মালিক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

সাহাব্দীরচর গ্রামের চাষি হেকমত আলীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ নেই। পল্লী বিদ্যুৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ দিচ্ছে। এর মধ্যে এক ঘণ্টা ভোল্টেজ থাকে না। পশ্চিম দড়িপাড়া গ্রামের কৃষানি নাজনা বেগম জানান, পানি না থাকায় জমি ফেটে যাচ্ছে। ধানগাছ মরে যাচ্ছে। গরিব মানুষ; তেল কিনতে পারছি না বলে ক্ষেতে পানিও দিতে পারছি না। ক্ষেতের আইলে গেলে খালি কান্না পায়। একই গ্রামের আজগর আলী পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তিনিও দুশ্চিন্তায় অস্থির। বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তেল কিনে পানি দিচ্ছেন। কতদিন এভাবে পানি দিতে পারবেন বুঝতে পারছেন না। একই গ্রামের আবদুল্লাহ জানান, ক্ষেতের চারা মরে যাচ্ছে। তেল কিনে পানি দিয়ে পোষাবে না।

চরভাবনা গ্রামের তরুণ চৌধুরী জানান, ২০-২৫ দিন ধরে সময়মতো বিদ্যুৎ  পাচ্ছি না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। ক্ষেতের চারা প্রায় মরেই গিয়েছিল। বোরিং করে ডিজেলচালিত নতুন মেশিন কিনে পানি দিয়ে কোনোরকমে ধানগাছগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করছি।

চরভাবনা গ্রামের গভীর নলকূপ অপারেটর মাধু মিয়া জানান, দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ  পেলেও এক ঘণ্টা ভোলটেজ থাকে না। মোটর চালানো ড্রাইভাররা এখন বেকাদায় আছেন। পাবলিকে কোনো কিছু বুঝতে চায় না।

শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মাসরুল হক খান জানান, শেরপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় পাঁচ হাজার সংযোগ রয়েছে। গত কদিন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তবে গত দুদিন ধরে জামালপুরে পাওয়ার প্লান্ট প্যাক চালু হওয়ায় রাতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোটর চালালে সেচকাজ ব্যাহত হবে না।