সুশিক্ষা

শখই যখন পেশা

হাতে ক্যামেরা থাকলেই ইচ্ছা করে প্রকৃতি ও মানুষসহ বৈচিত্র্যময়তাকে ক্যামেরায় বন্দি করতে। একে বলা যেতে পারে শখ। সে শখ থেকে প্যাশন আর ভালো লাগা। দুই ফটোগ্রাফারের এমনই ভাবনা তুলে ধরছেন আমজাদ হোসেন ফাহীম

বিজু রায়

প্রথমে শুনি ফটোগ্রাফার বিজু রায়ের কথা। নড়াইলের টাবরা গ্রামের সন্তান তিনি। বেড়ে উঠেছেন এ গ্রামে। বাবা সন্দেশের কারিগর। মা গৃহিণী। গ্রামে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শেষে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ালেখা করেন নড়াইল সিটি কলেজে। এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

ফটোগ্রাফির প্রতি কখন ভালবাসা জন্ম এ প্রশ্নের উত্তরে বিজু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ছবি তোলার আগ্রহ জন্মের। বিভাগের এক শিক্ষকের ক্যামেরায় হাতেখড়ি হয় আমার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন ফটোগ্রাফিক সোসাইটির বন্ধুদের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা শুরু করি। শেষ বর্ষে পড়ালেখার সময় ফটো সাংবাদিকতা কোর্স করি।’ এ সময় ক্যামেরা কেনেন বিজু রায়।

‘২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির ওপর একটি কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফিক সোসাইটি। এখানে প্রশিক্ষণ দেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফির নামকরা ফটোগ্রাফার এম আমিনুর রহমান। ‘চেকমেট ইভেন্টস’-এর স্বত্বাধিকারী তিনি। তার সঙ্গে পরে দেখা করি। তার কাছে কাজ শিখতে চেয়েছিলাম, কাজ করতে চেয়েছিলাম কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই। কাজ শেখার পাশাপাশি উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাই। শিক্ষানবিশ মানে ইন্টার্ন হয়ে শুরু করি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। দীর্ঘদিন ধরে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করছি। মানুষের সুন্দরতম আনন্দের মুহূর্তগুলোর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পারছি। সে মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করে আনন্দ পাচ্ছি,’ জানালেন তিনি। পাঁচ বছর একাধারে শুধু ছবি তুলছেন তিনি। ছবি তুলতে চান আজীবন। তবে নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টাও করছেন। ছবি তোলার পাশাপাশি সংগীত ও ভ্রমণ পছন্দ করেন বিজু।

পিয়াল দত্ত

আরেক ফটোগ্রাফার পিয়াল দত্ত চট্টগ্রাম শহরে বড় হয়েছেন। পড়ালেখা শুরু করেন চট্টগ্রাম মিশনারি স্কুলে। এরপর সেন্ট প্ল্যাসিড্স হাই স্কুল ও চট্টগ্রামের সরকারি কমার্স কলেজ। উচ্চমাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে।

পিয়ালের ক্যামেরার প্রতি ঝোঁক সেই ছোটবেলা থেকেই। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার কাছে একটা ডিজিটাল ক্যামেরা চেয়েছিলেন। পড়ালেখার ক্ষতি হবে ভেবে বাবা কিনে দেননি।

পরে আরও কয়েকবার ‘দেব, দেব’ বলে দেননি। এরপর জেদ চাপে তার। ঠিক করেন, নিজে উপার্জন করে ক্যামেরা কিনবেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম বছরে টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে ক্যামেরা, বেশ কয়েকটা লেন্স, এক্সটার্নাল ফ্ল্যাশ প্রভৃতি কেনেন। এটা সম্ভব হয়েছে তার জেদ আর পরিশ্রমের কারণে।

পিয়ালের আনুষ্ঠানিক ফটোগ্রাফির শুরু ২০১৭ সালের শেষের দিকে। এর আগে মোবাইল ফোন কিংবা অন্য কারও ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তুলতেন।

পিয়াল বলেন, ‘ফটোগ্রাফি ইজ নট মাই ফ্যাশন, ইট’স মাই প্যাশন। তবে নেশা থেকে কবে যে পেশা হয়ে গেল, টের পাইনি। প্রাথমিক পর্যায়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছি। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকায় কিছুটা বিপত্তিতে পড়েছি।’

সাধারণত ওয়েডিং বা মডেল ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন পিয়াল। মাঝেমধ্যে স্ট্রিট ফটোগ্রাফিও করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শিখতে চাই।’

পিয়ালের একটা ফটোগ্রাফি টিম রয়েছে। নাম ব্রাইডাল ভিউ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যেতে চান ব্রাইডাল ভিউকে। দেশজুড়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

সর্বশেষ..