দিনের খবর প্রথম পাতা স্পোর্টস

শততম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ক্রীড়া ডেস্ক ঃ আগেই নিজেদের শততম ওয়ানডে ও টেস্ট ম্যাচ জয়ে রাঙিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই বৃহস্পতিবার প্রশ্ন ছিল নিজেদের শততম টি-টোয়েন্টি রাঙাতে পারবে তো টিম টাইগার্স। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে প্রশ্নের উত্তর দিল মাহমুদউল্লাহর দল। এদিন নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে ৭ উইকেটে।  

হারারেতে বৃহস্পতিবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ জিতেছে ৮ উইকেটে। এরআগে মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বোলিং তোপে ১৯ ওভারে জিম্বাবুয়েকে ১৫২ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের সর্বোচ্চ ৪৩ রান রেগিস চাকাভার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান ডিয়ন মায়ার্সের। জবাব দিতে নেমে সফরকারীদের দলের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও সৌম্য সরকার ঝড় তোলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের নৈপুণ্যে ২ উইকেট হারিয়ে অনায়াসেই জয় নিশ্চিত করে টিম টাইগার্স। এরফলে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টিতে সিরিজে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

১৫৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বৃহস্পতিবার শুরু থেকেই ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ নাঈম। ওপেনিংয়েই তারা গড়েন দেন জয়ের ভীত। তাদের জুটি প্রথম ৬ ওভারে দলীয় স্কোর বোর্ডে তোলে ৪৩ রান। এরপর ৭.১ ওভারে দলীয় অর্ধশতক পার করান তারা। সে সময় থেকেই সৌম্য-নাঈমের ব্যাট আর চড়াও হয় জিম্বাবুয়ে বোলারদের ওপর। সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সৌম্য ৪৫ বলে ৪ চার ও ২ ছয়ে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ। তবে নিজের আর বড় করতে পারেননি এ ওপেনার। রান আউট হয়ে হয়ে ফেরেন তিনি। রিচার্ড এনগারাভার বল ডিপ মিডউইকেটে পাঠিয়ে দুই রান নিতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। স্টাম্প থেকে বেশ দূরে পাওয়া থ্রো ধরে রেজিস চাকাভা যখন বেলস ফেলে দেন তখনও খানিকটা দূরে ছিলেন তিনি। ভাঙে ১০২ রানের জুটি।

সৌম্য সরকারের পর হাফসেঞ্চুরি পান নাঈম শেখও। বাঁহাতি এই ওপেনারের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পঞ্চাশ এসেছে ৪০ বলে। এর কিছুক্ষণ পরেই রানআউটে কাটা পড়েন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ১৫ রান।

মাহমুদউল্লাহ ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন নাঈম। তাকে বেশ সঙ্গ দেন নূরুল হাসান সোহান। শেষ পর্যন্ত তাদের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ভর করে অনায়াসেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। নাঈম অপরাজিত ছিলেন ৫১ বলে ৬৩ রানে। তার ইনিংসে ৬ চারে সাজানো। অন্যদিকে নূরুল অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে।

এরআগে টস হেরে বৃহস্পতিবার শুরুতেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ফিরে যান স্বাগতিক ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি। ৭ রান করে আউট হন তিনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তবে জিম্বাবুয়েকে আটকে রাখা যায়নি। রেগিস চাকাভার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়ে নেয় স্বাগতিকরা। অবশেষে তার ঝড় থামে রান আউটে। জিম্বাবুইয়েন উইকেটকিপার ২২ বলে করেন ৪৩ রান। ঝড়ো ইনিংসটি তিনি সাজান ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়।  এরপরেই পাল্টে যায় চিত্র। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের আর খোলস ছেড়ে বের হতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা। উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই ফেরেন সিকান্দার রাজা, রায়ান বার্ল। এতে অলআউট হওয়ার আগে আর মাত্র ৬২ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা। তাদের ইনিংস থামে ১৫২ রানে।

বল হাতে দাপট দেখান মোস্তাফিজ। তিনি নেন ৩ উইকেট। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শরিফুল ২ উইকেট নিতে ৩ ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ১৭। সৌম্য সরকার ১৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। বাকি ১ উইকেট নেন সাকিব আল হাসানের।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..