সম্পাদকীয়

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হোক

কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে শব্দদূষণ ব্যাপক বেড়েছে। শব্দদূষণ বন্ধে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ নগরবাসীর। বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় অনেক আগেই স্থান করে নিয়েছে ঢাকা। এর একটি কারণ হলো শব্দদূষণ। একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, শব্দদূষণ অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ কানে কম শুনবে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুসারে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এলাকা ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য শব্দের মাত্রার পঁাঁচটি স্তর আছে। সেই হিসেবে ঢাকা শহরে শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৪০ থেকে ৭০ ডেসিবল। অথচ এটি কোথাও কোথাও গ্রহণযোগ্য মাত্রার তিনগুণেরও বেশি। আইন অমান্য করলে শাস্তির বিধানও রয়েছে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সচিবালয় এলাকায় আগের চেয়ে শব্দদূষণ বেড়েছে। অথচ ২০১৯ সালে এলাকাটিকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সাত দশমিক আট শতাংশ শব্দদূষণ বেড়েছে। শব্দদূষণ বিধি অনুযায়ী নীরব এলাকা হিসেবে সচিবালয় এলাকায় শব্দের মাত্রা থাকার কথা ৫০ ডেসিবল, কিন্তু সেখানে শব্দের মাত্রা কয়েক গুণ বেশি। ২১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় শব্দদূষণ বিধি অনুযায়ী নীরব এলাকা হিসেবে সচিবালয় এলাকায় শব্দের মাত্রা থাকার কথা ৫০ ডেসিবল, কিন্তু সেখানে শব্দের মাত্রা কয়েক গুণ বেশি।

সাধারণ মানুষ শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট সমস্যা বুঝতে পারে না। অধিকাংশ মানুষই শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবহিত নন। অজ্ঞতা কিংবা অসচেতনতার ফলে শব্দদূষণ দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই জানে না, কোনো মাত্রার শব্দ কী ক্ষতি করে। যেমন ১১০ ডেসিবল শব্দ শরীরের চামড়ায় শিহরণ তোলে, ১২০ মাত্রায় যন্ত্রণা দিতে পারে, ১৩০-এ বমি ও কর্মক্ষমতা কমাতে পারে, ১৪০ ডেসিবল বা শ্রবণেন্দ্রিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে আর ১৯০ ডেসিবল শব্দ মাত্রায় একেবারে নষ্ট হতে পারে শ্রবণশক্তি।

ঢাকা শহরের সড়কে চলা যানবাহন, রেলগাড়ি, বিমান, কলকারখানা প্রভৃতির মাধ্যমে শব্দদূষণের মাত্রা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলছে। অপরিকল্পিত বিস্তৃতি এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণে অকারণে ভেঁপু বাজানো নগরবাসীর জন্য একটি বড় সমস্যা। শব্দদূষণে নগরীর সব বয়সী মানুষই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত  জটিলতার শিকার। শব্দদূষণে শ্রমজীবীদের স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হয়, তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে, তাতে সন্দেহ নেই। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..