শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ইলেকট্রিক হর্ন আমদানি বন্ধ হোক

কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে শব্দদূষণ ব্যাপক বেড়েছে। শব্দদূষণ বন্ধে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ নাগরিকদের। বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় অনেক আগেই স্থান করে নিয়েছে ঢাকা। এর একটি কারণ শব্দদূষণ। একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, শব্দদূষণ অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ কানে কম শুনবে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুসারে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এলাকা ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য শব্দের মাত্রার পঁাঁচটি স্তর আছে। সেই হিসেবে ঢাকা শহরে শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৪০ থেকে ৭০ ডেসিবল। অথচ এটি কোথাও কোথাও গ্রহণযোগ্য মাত্রার তিনগুণেরও বেশি। আইন অমান্য করলে শাস্তির বিধানও রয়েছে।

রাজধানীর সচিবালয় এলাকায় আগের চেয়ে শব্দদূষণ বেড়েছে। অথচ ২০১৯ সালে এলাকাটিকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সুফল মিলছে না। না মেলারই কথা। একদিকে ‘নীরব এলাকা’ করা হচ্ছে, অন্যদিকে শব্দ দূষণকারী সামগ্রী আমদানিতে বাধা নেই। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘আমদানি হচ্ছে শব্দদূষণকারী ইলেকট্রিক হর্ন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইনের দুর্বলতাই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আমদানি করছে ইলেকট্রিক হর্র্ন। গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে আমদানিও করা হচ্ছে। এ হর্ন শব্দদূষণকারী হলেও আইনের ‘অস্পষ্টতার’ সুযোগ নিচ্ছে আমদানিকারকরা। এখন হর্নের শব্দের মানমাত্রার বিষয়ে এনবিআরের নির্দেশনা চায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, প্রতি বছর নিষিদ্ধ হর্ন আমদানি বেড়েই চলেছে।

সূত্রমতে, মানুষের স্বাভাবিক শব্দ গ্রহণের মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল (ডিবি) পর্যন্ত। ৬০ ডিবির বেশি শব্দ মানুষের সাময়িক এবং ১০০ ডিবির বেশি শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে যানবাহনে ব্যবহƒত কিছু হর্ন রয়েছে, যেগুলো ৬০ ডিবি থেকে ১২০ ডিবি পর্যন্ত শব্দ উৎপন্ন করতে পারে। তাই ৭৫ ডিবির ওপরে হর্ন আমদানি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।

সাধারণ মানুষ শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট সমস্যা বুঝতে পারে না। অধিকাংশ মানুষই শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবহিত নন। অজ্ঞতা কিংবা অসচেতনতার ফলে শব্দদূষণ দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই জানে না, কোনো মাত্রার শব্দ কী ক্ষতি করে। যেমন ১১০ ডেসিবল শব্দ শরীরের চামড়ায় শিহরণ তোলে, ১২০ মাত্রায় যন্ত্রণা দিতে পারে, ১৩০-এ বমি ও কর্মক্ষমতা কমাতে পারে, ১৪০ ডেসিবল বা শ্রবণেন্দ্রিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে আর ১৯০ ডেসিবল শব্দ মাত্রায় একেবারে নষ্ট হতে পারে শ্রবণশক্তি।

ঢাকা মহানগরে এমনিতেই যানবাহন, রেলগাড়ি, বিমান, কলকারখানা প্রভৃতির মাধ্যমে শব্দদূষণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলছে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনে কারণে-অকারণে গগনবিদারী ইলেকট্রনিক হর্ন বাজানো একটি বড় সমস্যা। আইনে নিষিদ্ধ হলেও মিথ্যা ঘোষণায় আনা হচ্ছে ইলেকট্রনিক হর্ন। চাহিদা আছে বলেই আমদানি হয়। এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা গেলে কেউ এটি আমদানি করবে না। কঠোর শাস্তি ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড হলে ইলেকট্রনিক হর্ন আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। এনবিআর এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা। 

সর্বশেষ..