সম্পাদকীয়

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিন

মানুষের প্রয়োজন মেটাতে শব্দের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। মানবশিশুর মুখের শব্দ না এলে তার মা-বাবার চেষ্টার অন্ত থাকে নাÑশব্দ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টায়। তাই শব্দ মানুষের কতটা প্রত্যাশিত সহজেই অনুমেয়। তবে উচ্চ বা বিকট শব্দ মানুষের শ্রবণেন্দ্রিয়কে প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তারতম্য ও ভিন্নতার কারণে শব্দকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকেÑসুরযুক্ত শব্দ এবং সুরবর্জিত শব্দ। গাড়ির হর্ন, ইট-পাথর ভাঙার মেশিনের শব্দ, জেনারেটরের শব্দ, কলকারখানায় সৃষ্ট শব্দ প্রভৃতি সুরবর্জিত শব্দ আমাদের পরিবেশ-দূষণের অন্যতম কারণ। নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে যে কোনো শব্দই পরিবেশগত সমস্যা।

বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থার জরিপে বাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় যে কারণে আমাদের রাজধানী শহর স্থান পেয়ে আসছে, তার মধ্যে শব্দদূষণও একটি। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৭ সালের জরিপে উঠে এসেছে, আমাদের বিভাগীয় শহরগুলোয় যানবাহন এবং হর্ন শব্দদূষণের জন্য প্রধানত দায়ী।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০০৬ সালেই পাস হয় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা। ওই বিধিতে নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট সময় শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। যেমন আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে  ভোর ৬টা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল এবং দিনের অন্য সময়ে ৫৫ ডেসিবেল অতিক্রম করতে পারবে না। বাণিজ্যিক এলাকায় তা যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ ডেসিবেল। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের আশপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে রাতে ৪০ ও দিনে ৫০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা নির্ধারণ করা আছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেলের অধিক শব্দ দীর্ঘসময় ধরে থাকলে সাময়িক বধিরতা আর ১০০ ডেসিবেলের বেশি হলে স্থায়ী বধিরতা হতে পারে।

শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হলেও এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও সেটির যথাযথ প্রয়োগ ঘটছে না। রাজধানীতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে তিনগুণ বেশি শব্দদূষণ হচ্ছে বলে গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়। গত বুধবার ‘আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস, ২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, সবার সচেতনতায় পরিবেশগত এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

শব্দদূষণ প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে শব্দের অপকারিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। শব্দদূষণরোধে গাড়িচালক-সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। প্রতি বছর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর কত শতাংশ শব্দদূষণে আক্রান্ত, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বধিরতায় আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ক্ষুধামন্দা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, কাজে মনোযোগী হতে না পারা, কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ করাসহ হƒদরোগের সমস্যাও হতে পারে।

বর্তমানে যেভাবে শব্দদূষণ হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সাল নাগাদ এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এর দ্বারা আক্রান্ত হবেন। সাধারণ মানুষকে কর্মক্ষম রাখতে পরিবেশ শব্দদূষণ মুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..