সম্পাদকীয়

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি

ঘর ছেড়ে রাস্তায় বের হলেই প্রতিনিয়ত শব্দদূষণের মুখোমুখি হচ্ছেন রাজধানীবাসী। রাস্তাঘাটে বের হলেই বিকট আর উচ্চ শব্দে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। হাসপাতালে গেলেই চোখে পড়ছে শব্দদূষণে অসুস্থ হয়ে পড়া অনেকেই। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই শব্দদূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ কাম্য।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ঢাকার বেশিরভাগ স্থানেই হচ্ছে শব্দদূষণ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটির তথ্য মতে, রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ হচ্ছে। সচিবালয়ের চারপাশের এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করার পরেও সেখানে শব্দদূষণ বন্ধ হয়নি। ঢাকার অন্য এলাকাগুলোতেও নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ হচ্ছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। শব্দদূষণের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, কান ব্যথা করা, এমনকি বধিরতার মতো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি হঠাৎ বিকট শব্দের কারণে হƒদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতি রোধ করা অপরিহার্য।

যদিও শব্দদূষণ রোধে বিভিন্ন সময় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু সেগুলো খুবই বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত। আবার একটি উদ্যোগ নেওয়ার পর তার ধারাবাহিকতা থাকে না। ফলে কার্যক্রমটি চালু থাকা অবস্থায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পরে ফের আগের অবস্থায় ফিরে যায়। আবার দেশেই শব্দদূষণ হলেও কেবল সচিবালয় এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এ দিয়ে কতটুকু উন্নতি হতে পারে, তা বোধগম্য নয়। শব্দদূষণ কমাতে আমাদের নাগরিকদের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সড়কে বের হলে দেখা যায়, অনেক চালক যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় অহেতুক হর্ন বাজাতে থাকে। এমনকি অনেক শিক্ষিত মানুষও এ ধরনের আচরণ করে। কাজেই আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতিগত পরিবর্তনও জরুরি। এ জন্য ব্যাপকহারে প্রচারণা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। আরও যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তার মধ্যে রয়েছে বিনা প্রয়োজনে উচ্চস্বরে গান এবং লাউডস্পিকার বা মাইক বাজানো নিরুৎসাহিত করা, গাড়ির চালককে অকারণে হর্ন বাজাতে নিষেধ করা ও শ্রেণিকক্ষে হইচই বা শব্দ না করা। পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বাসস্টপেজ করতে না দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের শব্দদূষণের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। সরকার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম পদক্ষেপ নেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..