প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শব্দদূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

কলকারখানার উচ্চশব্দ, যন্ত্রচালিত গাড়ির হর্ন, বাজি-পটকার শব্দ মাইক্রোফোনের আওয়াজে মানুষের শ্রবণক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে; যা মানসিক বিপর্যয়, রক্তচাপ বৃদ্ধি, স্নায়বিক অস্থিরতাসহ নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি করছে।  উচ্চগ্রাম শব্দ রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে অসুস্থ মানুষদের কষ্ট ও যন্ত্রণা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করে কোনো উচ্চমাত্রার শব্দ স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট করে দিতে পারে। অনবরত ৬০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ শুনতে থাকলে তা মস্তিষ্কের পক্ষেও যথেষ্ট ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ জোরালো বা তীক্ষè শব্দ শুনলে তা মাথাব্যথার সৃষ্টি করে। শব্দদূষণ স্বাধীন চিন্তা-ভাবনার পথে বাধা। তাই শব্দদূষণ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার যথেষ্ট ক্ষতি করে। শব্দদূষণ অপরিণত শিশুর চেতনার ওপর আঘাত হানে ও তার সুস্থ মনকে বিপর্যস্ত করে। শব্দের দূষণ শুধু মানব সমাজের ওপরই খারাপ প্রভাব ফেলে না, অন্যান্য প্রাণীদের জন্যও শব্দদূষণ মারাত্মক ক্ষতিকর। বন্য পরিবেশে শব্দদূষণ বিভিন্ন অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ও পাখিদের প্রজননে অসুবিধা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দদূষণ মানুষের দ্বারাই হয়ে থাকে। তাই আমাদের সবার সচেতনতা আর সামান্য চেষ্টায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অতিরিক্ত শব্দের উৎসগুলো কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। যেমন উচ্চ শব্দের বাজি ফাটানো, বিকট শব্দ সৃষ্টি করেÑএমন যন্ত্রপাতি ব্যবহার কমাতে হবে। উৎসব অনুষ্ঠানগুলোয় মাইকের উচ্চ শব্দ  নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ব্যাটারিচালিত গাড়ি শব্দদূষণ করে না। তাই আমরা যদি ব্যাটারিচালিত যানবাহন ব্যবহার করি, রাস্তার যানজটে শব্দদূষণ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। কলকারখানার যেসব যন্ত্রপাতি থেকে শব্দদূষণ হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের উদ্যোগও জরুরি।

-আল-আমিন ইসলাম

শিক্ষার্থী, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়