সুস্বাস্থ্য

শরীরের প্রয়োজনে জিংক…

আমাদের দেহের এনজাইম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য জিংক বা দস্তার প্রয়োজন। জিংক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এজন্য অল্প পরিমাণে হলেও জিংক গ্রহণ করা উচিত। কারণ, স্বল্পমাত্রার জিংক শরীর কর্মক্ষম, সুস্থ রাখার পাশাপাশি যাবতীয় কার্যাবলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। কোষ গঠন, হরমোন উৎপাদন ও বিপাকে সহায়তা করে। এছাড়া ডিএনএ উৎপাদনের পাশাপাশি এ উপাদান ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে। লাল মাংস, গম, ওট প্রভৃতি খাবারে এটি পাওয়া যায়। জিংকের নানা উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন:

ইমিউনিটি গঠন করে

ইমিউন কোষে জিংক বা দস্তার উপকারী প্রভাব লক্ষ করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, জিংকের সাপ্লিমেন্টস গ্রহণ করলে অক্সিডেটিভ চাপ হ্রাস পায়। দেহে দস্তা বা জিংকের অভাব দেখা দিলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায় ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই জিংকের অভাব পূরণ করতে হবে। জিংক যে কোনো অসুখ দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মতে, জিংক সাপ্লিমেন্টস শিশুদের শ্বাসযন্ত্র ভালো রাখে।

ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে

ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জিংকের অভাব থাকে। তাই যথাসম্ভব জিংকসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে বলে এটি ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

জিংক বা দস্তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস রোগীকে সুস্থ রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, জিংকের অভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয় অনেকে। জিংকে এমিলিন প্রতিরোধের নানা উপাদান রয়েছে। এতে বিদ্যমান মিনারেল ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

হার্ট ভালো রাখে

জিংক হার্ট ভালো রাখে। গবেষণায় প্রমাণিত, হার্টের পেশি ভালো রাখে জিংক। মিনারেল অম্লজাতীয় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, এমনকি দীর্ঘদিন যেন হার্টের ক্ষতি না হয়Ñতা নিশ্চিত করে। শরীরে জিংকের ঘাটতি থাকলে হার্টের নানা সমস্যা দেখা দেয়। আমেরিকার কয়েকজন গবেষক দেখিয়েছেন, জিংক পিঠের ব্যথা দূর করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

গবেষকদের মতে, জিংক বা দস্তা শরীরে ডায়েটারি জিংক সরবরাহ করে ওজন কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ওজন রয়েছে এমন ব্যক্তিরা জিংক সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন, ওজন কমবে।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

জিংক মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এটি মস্তিষ্ক সংশোধন ও চাপের প্রতিক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি জিংক পাওয়া যায়। উচ্চ দস্তা বা জিংকের উচ্চ ডোজ স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

হাড় শক্তিশালী করে

জিংক হাড়কে যে কোনো ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। নানা ধরনের ওস্টিওপরোসিস দূরে রাখতে সহায়তা করে। জিংকের অভাবে হাড়ের বিপাকীয় সমস্যা দেখা যায়। এটি যেমন হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, তেমনি হাড় গঠনেও ভূমিকা রাখে। এছাড়া জিংক মুখের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়

রেটিনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাকুলায় উচ্চ জিংক রয়েছে। দেহে জিংকের অভাব হলে মানুষ চোখে কম দেখে, নানা রোগে ভোগে। তাই যত সম্ভব জিংকের অভাব পূরণ করতে হবে।

বিপাকীয় ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়

শরীরের বিপাকীয় ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় জিংক। বিপাকীয়

অবস্থা ভালো না হলে কিংবা স্বাভাবিক না হলে শরীর মেদবহুল হয়ে পড়ে। জিংক পেটের নানা সমস্যা দূর করে শরীর সুস্থ রাখে। জিংকের অভাবে প্রোটিন গ্রহণ ও হজমে ব্যাঘাত ঘটে। এসব সমস্যা প্রতিরোধে জিংক আবশ্যক।

গর্ভকালীন অবস্থায় উপকারী

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় কয়েক নারী জিংক সাপ্লিমেন্টস খেয়েছেন। তাদের সন্তানদের ওজন কম হলেও তারা ডায়রিয়া ও আমাশয়ের ঝুঁকি থেকে মুক্ত রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মতে, গর্ভাবস্থায় মায়েদের জিংকের ঘাটতি থাকলে জরায়ুর ভেতরে সমস্যা হতে পারে। এর অভাবে কম ওজনের শিশু জন্মলাভ করে এবং সন্তান জন্ম দিতে সমস্যা হয়। জিংক প্রজনন ক্ষমতা ও উর্বরতা বাড়ায়।

চুলের বৃদ্ধি ঘটায়

জিংক চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে। নিয়মিত জিংকসমৃদ্ধ খাবার কিংবা সাপ্লিমেন্টস গ্রহণ করলে চুুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, চুল পড়া রোধ হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..