প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শরীয়তপুরে কৃষকরা ঝুঁকছেন মাছ চাষে

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জমিতে ফসল আবাদের পরিবর্তে পুকুর কেটে মাছ চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন শরীয়তপুরের কৃষক। মৎস্য বিভাগ এতে সহযোগিতা জোগালেও কৃষি বিভাগ খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা করছে। খবর বিডিনিউজ।

জেলার ছয়টি উপজেলার সবকটিতে ফসলি জমিতে বড় বড় পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে শরীয়তপুরের পূর্বাঞ্চল বিঝারী, কাপাশপাড়া, কান্দিগাঁও, কানারগাঁও, শিরঙ্গল, বাজনপাড়া, ধামারন, কার্তিকপুর, সিঙ্গাচূড়া, দাতরা, নওগাঁ থেকে শুরু করে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর, আচুড়া, আটিপাড়া, দুলুখণ্ড, আনাখণ্ডসহ সর্বত্র। এছাড়া ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জমি কেটে মাছের প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। বেশিরভাগ প্রকল্প চালাচ্ছেন স্থানীয় যুবকরা। তারা সমবায় পদ্ধতিতে মাছ চাষে বেশি উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। জাজিরা উপজেলায় এর পরিমাণ তুলনামূলক কম।সদর উপজেলার চাদসার গ্রামের মৎস্যচাষি আবদুর রাজ্জাক সরদার জানান, তিনি চার বছর আগে কৃষিকাজ করতেন। ধান চাষে কৃষিশ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ১০ একর জমির পুকুরে মাছ চাষ করে বছরে খরচ বাদে পাঁচ লাখ টাকা লাভ পাচ্ছেন। নড়িয়া উপজেলার মাণ্ডা গ্রামের চপল মোল্লা ও হালিম মোল্লাসহ ১১ জন মিলে ১১০ বিঘা জমিতে একটি দিঘি খনন করে মাছের খামার করছেন। বিঝারী এলাকার কৃষক সামছেল হক মৃধা ছয় একর জমিতে ধান চাষ করে কয়েক বছর ধরে লোকসান দিয়েছেন। বর্তমানে ওই জমিতে মাছের ঘের করে ভালো লাভ পাচ্ছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, ধান উৎপাদন থেকে মাছ চাষে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক ধান বাদ দিয়ে মাছ চাষে এগিয়ে আসছেন। আগে যে জমিতে ধান চাষ হতো, এখন তারা সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছেন। ধান চাষ করে যে লাভ হয়, মাছ চাষে তার থেকে চারগুণ পর্যন্ত বেশি লাভ হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কবির হোসেন জানান, নির্দিষ্ট আইন না থাকায় অধিক পরিমাণে মাছ চাষ করে কৃষিজমি ধ্বংস করা হচ্ছে। এভাবে আবাদি জমি কমতে থাকলে জেলায় খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে এবং খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

জেলার কৃষিজমির পরিমাণ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কবির হোসেন জানান, গত ১০ বছরে শরীয়তপুরে মাছ চাষের কারণে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর ফসলি জমি কমে গেছে। ২০০৫ সালে এ জেলায় ফসলি জমির পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার হেক্টর। ২০১২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার হেক্টরে। ২০১৫ সালে আরও তিন হাজার হেক্টর কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার হেক্টরে।