প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শর্তভঙ্গ করে সাগরে বর্জ্য ফেলছে ক্রিস্টাল গোল্ড

প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর কাটা হচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারকি সৈকতে আটকে পড়া জাহাজ ক্রিস্টাল গোল্ড। পরিবেশগত বিপর্যয় ও পর্যটন এলাকায় বিষাক্ত বর্জ্য এড়াতে এ বিষয়ে গঠিত হয়েছে হাইকোর্টের সাত সদস্যবিশিষ্ট মনিটরিং কমিটি। তবে এবার মনিটরিং কমিটির শর্ত ভঙ্গ করেছে জাহাজ কাটা কর্তৃপক্ষ ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাকরি বিচে আটকে পড়া জাহাজটির অনেকাংশ কেটে ফেলা হয়েছে। জাহাজটির ভেতর থাকা তেলজাতীয় বস্তু পুরো বিচ এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। এর ফলে পারকি বিচের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, এতদিন জাহাজের এসব বর্জ্য চোখে পড়েনি। গতকাল জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে তরলজাতীয় এসব পদার্থ পুরো বিচ এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

এদিকে জাহাজটি কাটার আগে ক্রিস্টাল গোল্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে এ জাহাজটি কাটা হচ্ছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজটি কাটার জন্য। হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজটি কাটার জন্য অনেক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করা হয়েছে সেটি হচ্ছে, জাহাজের ৭০টি পয়েন্ট থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছিল। জাহাজে পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক বর্জ্য, তেল ও ক্ষতিকারক যে ৪০-৫০টি জিনিস থাকে, সেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সবগুলো থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মালয়েশিয়ায় একটি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।

ল্যাব পরীক্ষা করে দেখছে, পরিবেশের জন্য মেজর যে  ক্ষতিকারক জিনিস থাকে, বর্তমানে সেগুলো রিমুভ হয়ে গেছে। কিছু জিনিস আছে রং। রঙের বাবরি চামড়াগুলো আমরা সংগ্রহ করে ড্রাম দিয়েছি, যাতে রং না পড়ে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সব ডিপার্টমেন্টে কীভাবে এ জাহাজটি কাটা হবে এবং জাহাজের বর্তমান অবস্থাটা কী, সেই জিনিসগুলো পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেখানোর পরে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুফিদুল আলম বলেন, জাহাজটি কাটার বিষয়ে হাইকোর্ট সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানা অফিসার ইনচার্জ রয়েছেন। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। বিষয়টি তারা তদারকি করে দেখে থাকেন।

বিষয়টি নিয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদকে একাধিকবার ফোনে না পেয়ে কমিটির সদস্য কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল মাহমুদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।