সম্পাদকীয়

শহরগুলোকে বাসযোগ্য করে তুলতে পরিকল্পনা নিন

২০১০ সালে রাজধানী নিয়ে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) পাসের সময় বাসযোগ্যতার বিচারে বিশ্বের ১৪০টি বড় শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল একেবারে তলানিতে, ১৩৯তম। তারপর অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। বাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় এবার আমাদের রাজধানী শহর চতুর্থ। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২১ সালের বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার স্থান ১৩৭ নম্বরে।

স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং শিক্ষা ও অবকাঠামোর ভিত্তিতে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছর তালিকায় ঢাকা ছিল ১৩৮ নম্বরে। তার আগের বছর ছিল ১৩৯ নম্বরে। ঘুরেফিরে নিচের দিকেই অবস্থান! তালিকায় স্থিতিশীলতায় ৫৫ পয়েন্ট পেয়েছে ঢাকা। স্বাস্থ্যসেবায় ১৬ দশমিক সাত, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৩০ দশমিক আট, শিক্ষায় ৩৩ দশমিক তিন ও অবকাঠামোতে পেয়েছে ২৬ দশমিক আট পয়েন্ট।

আমাদের কর্মপরিল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সফল হলে প্রতি বছরই বাস-অযোগ্য শহরের তালিকার নিচের দিকে থাকত না ঢাকা। ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিকল্পনা কর্মকৌশল নেয়া হয়। আরও বাসযোগ্য ও উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন নতুন কর্মকৌশল যুক্ত করা হয়। নগরের সমস্যা সমাধানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সমস্যা থেকেই যায়। অথচ কত দিন ধরে আমরা শুনে আসছি কর্মকৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে নগরে জলাভূমি সংরক্ষণ, উন্নত বাসস্থান, প্রশস্ত সড়ক, উš§ুক্ত স্থান, বিনোদনকেন্দ্রসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কোন এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন হবে, কোন এলাকায় আবাসন গড়ে উঠবে বা কোথায় শিল্প কারখানা থাকবে, তার কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে। এসব নিয়মনীতির ক্ষেত্রে রাজউক শক্ত ভূমিকা রাখতে পারেনি। ঢাকায় অগ্নিদুর্ঘটনা, কিংবা ভবন ধসে মৃত্যুর পরই আমাদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বেশি কথা শোনা যায়। পরবর্তী সময়ে স্তিমিত হয়ে যায় আয়োজন। আরেকটি দুর্ঘটনার জন্যই যেন অপেক্ষা করি আমিরা। এটি দুঃখজনক।

জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় আবাসন, পরিবহন, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সামাজিক ও অন্যান্য নাগরিক সেবা যথাযথভাবে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, পৌরসভা ও উপজেলা শহর এলাকায় কর্মক্ষেত্রের সুযোগ সৃষ্টি, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার ওপর চাপ কমে আসবে।

আধুনিক নগর-পরিকল্পনায় খেলার মাঠ, পার্ক, উদ্যান ও জলাশয়কে বলা হয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো। নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামো তৈরিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। বলা হয়ে থাকে, কোনো শহরের জনঘনত্ব একরপ্রতি ১২০-এর ওপর গেলে বাসযোগ্যতা কমতে থাকে, যেক্ষেত্রে রাজধানীর অনেক এলাকায় জনঘনত্ব ৫৫০-এর বেশি। এলাকাভিত্তিক জনঘনত্ব নির্ধারণে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মহানগর এলাকার ভবনগুলোর ভেতর সূর্যের আলো, বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে ইমারত-সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও নগর-পরিকল্পনা প্রণয়ন করার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। অংশীজন ও নগর বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্য শহরগুলোকেও পর্যায়ক্রমে পরিকল্পনামাফিক গড়ে তুলতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..