প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শাঁওইল হাট : ঝুটকাপড়ে বোনা রঙিন স্বপ্ন

 

প্রতিবছর শীতে দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে কম্বল কেনা হয়। এনজিও, ব্যাংক ও বিমা কোম্পানিও শীতবস্ত্র কিনে বিতরণ করে থাকে। এসব পোশাকের সিংহভাগ আসে বগুড়ার শাঁওইল হাট থেকে। সেখান থেকে ঘুরে এসে বিস্তারিত জানাচ্ছেন নাজমুল হোসাইন

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় নশরতপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম শাঁওইল। জংশন শহর সান্তাহার থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান।

প্রতি রবি ও বুধবার ছোট্ট শাঁওইল গ্রামে চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ। বসে কম্বল-চাদরসহ বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্রের হাট। বিক্রি হয় কোটি কোটি টাকার পণ্য। নতুন নয় এ হাট; বহু আগে থেকেই শীতবস্ত্রের জন্য শাঁওইল হাটের নামডাক রয়েছে। সেখানের তাঁতিদের তৈরি কম্বল-চাদর কম দামে বিক্রি হচ্ছে সারা দেশে। তবে ওই হাটের ব্যাপ্তি এখন শুধু শীতবস্ত্র তৈরিতে থেমে নেই। সেখানে রয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠার এক ইতিহাস। যা এখন শুধু সপ্তাহের দু’দিনের নয়, প্রতিদিনের কাজের অংশ।

এ ইতিহাস জানতে আমাদের ফিরে যেতে হবে আশির দশকে। তখন শীতবস্ত্র তৈরিতে এ এলাকার তাঁতিরা উলের সুতা সংকটে ভুগতেন। সে সমস্যা কাটাতে তারা সুতায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। তিন যুগ পেরিয়ে সেই স্বপ্ন আজ হাতের মুঠোয়। পোশাকের সুতা তারা ঘরেই তৈরি করছেন। নিজেদের সুতায় তারা বুনছেন নিজেদের বস্ত্র। দেশের নানা স্থানের গার্মেন্ট থেকে উলের পুরোনো ঝুট নিয়ে তা থেকে রিসাইকেল করে সুতা তৈরি করা হয়। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে সেই সুতাও বিক্রি করা হয় সারা দেশে।

সুতার হাট চলে প্রতিদিন। কম্বল-চাদর তৈরি তো রয়েছেই, পাশাপাশি সুতা কেটেও জীবিকা নির্ভর করেন শাঁওইলসহ আশপাশের অর্ধশত গ্রামের মানুষ।