দিনের খবর শেষ পাতা

শান্তি রক্ষার সংকট নিরসনে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের এ সময় শান্তি রক্ষা কার্যক্রমের নতুন সংকট নিরসনে শান্তিরক্ষীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করা অতীতের চেয়েও বেশ চ্যালেঞ্জিং।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জš§শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত অনুশীলন ‘শান্তির অগ্রসেনার’ সমাপনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূত্র: বিডিনিউজ।

তিনি বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোয় শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এ পর্যন্ত ১৫৮ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, ২৩৭ জন আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে আগামী দিনের নতুন সংকটগুলো মোকাবিলায় শান্তিরক্ষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদি দিয়ে প্রস্তুত করা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানতে পেরেছি, ‘অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনা’য় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সাম্প্রতিক সময়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কিছু ঘটনা অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে করে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষীরা সুপ্রশিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা আমন্ত্রিত পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮০০ নারী শান্তিরক্ষীসহ এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাঁচটি মহাদেশের ৪০টি দেশের ৫৪টি মিশনে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য ১০টি মিশনে শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন।

আমাদের শান্তিরক্ষীরা যে মিশনে গেছেন, সেখানে জাতিসংঘের পতাকা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করেছেন। এ কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, যে কোনো দেশের জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী অপরিহার্য। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সক্ষমতা যাচাইয়ে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি অত্যাধুনিক সামরিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, গত ১২ বছরে আমরা আমাদের তিন বাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছি। আমাদের সামরিক বাহিনীতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তির সংযোজন করেছি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ স্বাগত ভাষণ দেন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুশীলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার ১২৩ সেনাসদস্যের মধ্যে প্রত্যক দেশের দুজন করে সেনাসদস্যকে অনুষ্ঠানে সনদ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সনদ তুলে দেন সেনাপ্রধান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..