প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শাপলা দেখতে ডিবির হাওর

সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘ডিবির হাওর’ এর প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে শাপলা ফুল। থরে থরে ফুটে থাকা শাপলা মানসপটের কল্পিত সৌন্দর্যকেও হার মানাবে। ঘুরে এসে জানাচ্ছেন বাখতোয়ার জাহান ইভানা

ডিবির হাওর পরিচিতি

সিলেটের জৈন্তাপুরে জৈন্তা রাজার স্মৃতিবিজড়িত ডিবি বিল, ইয়াম, হরফকাটা, কেন্দ্রি বিলগুলো ডিবির হাওর নামে পরিচিত। সীমান্তবর্তী বিলগুলো ছেয়ে গেছে শাপলায়। ডানে-বায়ে, সামনে-পেছনে শুধু শাপলা আর শাপলা!

আমাদের ভ্রমণ

ঘড়িতে এলার্ম দিয়েছিলাম ৫টায়। শাপলার বিলে যাব এই খুশিতে সারা রাত ঠিকমতো ঘুম হলো না। অগত্যা বিছানা ছেড়ে তৈরি হয়ে নিলাম।

সঙ্গী হচ্ছে নাটকের সিনিয়র ভাইয়া, ভাবী এবং আপু। জুয়েল ভাইয়ের কড়া নির্দেশে শাবিপ্রবির প্রথম ছাত্রী হল থেকে বের হলাম ৫.৩০টায়। এত ভোরে ক্যাম্পাস থেকে আগে কখনো বের হইনি। আধো আলো শিশিরভেজা এক কিলোমিটার রোড হেঁটে যাচ্ছিলাম আর কীভাবে সকাল হয়Ñতা উপভোগ করছিলাম। বেশ লাগছিল! ভার্সিটি গেটের কাছাকাছি আসতেই দেখি শান্ত দা হাজির। ওখানে অপেক্ষা করছিল বাস। উঠে পড়ি।

15415995_1206791542748115_1336284034_nআমাদের নিয়ে বাস ছুটছে শাপলার বিলের উদ্দেশে। ইট-কাঠের শহরে বড় হওয়ার কারণে হাওর, বিল, নদীর কাছাকাছি যাওয়া হয়েছে খুব কম। তাই বেসরকারি একটি টেলিভিশনে শাপলার বিল নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেখে ভড়কে গিয়েছিলাম। এতটা সুন্দর হয়ে ধরা দিতে পারে শাপলা তা ভাবনার মধ্যে ছিল না। সেই কারণে আকর্ষণটা একটু বেশি পরিমাণই। বাস থেকে যখন বিলের কাছাকাছি নামলাম, মুগ্ধতা বাড়লো বৈ কমলো না। থরে থরে ফুটে থাকা শাপলা দেখে মনে হচ্ছিল কল্পনাকে হার মানিয়েছে দৃশ্যমান সৌন্দর্য!

আমরা মোট পাঁচটি নৌকা নিলাম। শুরু হলো নৌকায় পুরো বিল ঘুরে দেখা। ছোট নৌকা থেকে ছোঁয়া যায় নরম-তুলতুলে ফুটে থাকা শাপলাগুলো। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ডুবে গেছি প্রায়!  কিছুদূর পরপর বিলের মাঝে ডাঙার মতো জায়গাও আছে। যেখানে বসে ইট, বালু, পাথর আর যান্ত্রিক কোলাহলমুক্ত শান্তির পরশ পাওয়া যায়। এখানকার আরেকটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য হচ্ছে পাখিদের ওড়াওড়ি। বিলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দল বেঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে বেড়ায়। পাখির কিচিরমিচির আমাদের মনে নতুন সুরের জোয়ার আনে।

15288521_1248474151877296_8929697545005944854_oমজার ব্যাপার হলো, ভোরের ঘোমটা খোলা শাপলাগুলো দুপুর ১২টা বাজতেই ঘোমটা টেনে দিল। কিন্তু এর আগে যে নৈসর্গিক সৌন্দর্য রেখে গেল হৃদয়ে, নয়নে তা কখনও ভোলার নয়।

যেভাবে যাবেন

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে সিলেটে আসতে হবে। এরপর সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় যাওয়ার বাস এবং সিএনজি অটো রিজার্ভ দুভাবেই যেতে পারবেন। সিলেট কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে গেলে খরচ কম। সিএনজি অটো রিজার্ভ করলে যাওয়া আসা-ভাড়া প্রায় ১০০০-১২০০ টাকা। এরপর হাওরে ঘুরতে হবে নৌকার মাধ্যমে। প্রতিটি নৌকার ভাড়া ৩০০ টাকা করে।