প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সমর্থনে জাবি শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি

প্রতিনিধি, জাবি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকরা। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেলা সাড়ে ১১টায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বেলা ১টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘করোনার কারণে প্রায় দু’বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ ছিল।’ এসময় যাদের প্রশ্নাতীত রাজত্ব তৈরি হয়েছে, তারা হলেন ঠিকাদার, কনস্ট্রাকশন কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, প্রজেক্টগুলোর কমিশনভোগী এবং এখান থেকে যারা চাঁদা গ্রহণ করেন। তারাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব কাজ যারা প্রশ্রয় দেন, পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারেন, তাদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়, দরকার পড়লে নিয়ম ভেঙে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। আর এ উপাচার্যদের দায়িত্ব হয় নিজের অনুগত শিক্ষক বাহিনী তৈরি করা। এর বিরুদ্ধে যাতে কোনো কথা না হয়, এজন্য রাষ্ট্র এমন একটা আবহ তৈরি করেছে যে, শিক্ষার্থীরা কোনো কথা বলবেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা কোনো কথা বলবেন না।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকত, তখন উপাচার্যরা সরকারকে জানাতÑপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন-তখন পুলিশ ঢুকতে পারে না। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায়, উপাচার্যকে রক্ষা করার জন্য পুলিশ ও সরকারের পেটোয়া বাহিনী ছাত্রলীগ সবার আগে থাকে। এতকিছুর পরও শাবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন জারি রাখতে পেরেছে, এটাই সফলতা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘শাবির উপাচার্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার মান ও গবেষণা কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের করা যায়, সে ব্যাপারে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে কখনও কিছু বলতে শোনা যায়নি। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরতন্ত্র, দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি চলছে। সে ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান সুমন, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জীবন খন্দকার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি থেকে প্রভোস্ট বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ছাত্রীরা। পরে ছাত্রলীগ ও পুলিশের অ্যাকশনের পর সেই আন্দোলন ভিসির পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর দাবি আদায়ে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দফায় দফায় আলোচনা করেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরাতে পারেনি সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বারবার আশ্বাসেও মন গলেনি শিক্ষার্থীদের।

পরে গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের অনুরোধে অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।