সারা বাংলা

শার্শায় শামুক কুড়িয়ে চলে দুই শতাধিক পরিবারের জীবিকা

মহসিন মিলন, বেনাপোল: যশোরের শার্শায় নিম্ন আয়ের দুই শতাধিক পরিবারের সদস্যরা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট জলাশয়ের শামুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস এবং বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে তেমন কোনো কাজ না থাকায় নিম্ন আয়ের কর্মহীন ওইসব পরিবারের সদস্য বাধ্য হচ্ছেন ভিন্ন উপায়ে উপার্জন করে পরিবারের সব সদস্যের খাবারের ব্যবস্থা করতে। সে জন্য এ উপায় বেছে নিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের নিম্ন আয়ের কর্মহীন দুই শতাধিক পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও পুকুর-জলাশয়ে সারা দিন শামুক কুড়ান। পরে এসব শামুক বিকালে নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে জড়ো করেন। এরপর শামুকের ব্যবসায়ীর (ক্রেতা) কাছে বিক্রি করেন। প্রতি কেজি শামুক পাঁচ টাকা কেজিদরে বিক্রি করে, যা আয় হয় তা দিয়েই তারা সংসার চালান বলে জানা গেছে।

শামুক সংগ্রহের কাজ চলে বছরের বাংলা মাস আষাঢ় থেকে কার্তিক পর্যন্ত। শামুক সংগ্রহকারী অনেকেই জানান, এ বছর সব জলাশয়ের পানি অত্যন্ত বিষাক্ত। ফলে পানিতে নামলেই চুলকানিসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তারপরও জীবিকার প্রয়োজনে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন এ কাজ করতে।

এ বিষয়ে কথা হয় ডিহি ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামের জেলেপাড়ার শংকর ও নিমাই মণ্ডলের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘আগে স্থানীয় বনমান্দার বিলে উš§ুক্ত জলাশয়ে আমরা মাছ ধরে খেতাম। কিন্তু সেখানে ব্যক্তি মালিকানায় মাছের ঘের হওয়ায় এখন আর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে ভিন্ন পেশা বেছে নিয়ে বছরের কয়েক মাস শামুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। প্রতিদিন ৭০-৮০ কেজি শামুক পায়। এতে যা আয় হয় তাই দিয়ে সংসার চালাচ্ছি।’

ইউনিয়নের পাকশিয়া গ্রামের রজব আলী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের এ সময়ে তেমন কোনো কাজকর্ম নেই। তাই প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর ২-৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন জলাশয়ে ঘুরে ঘুরে ৫০-৬০ কেজি শামুক সংগ্রহ হয়। পাঁচ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।’

নিজামপুর ইউনিয়নের গোড়পাড়া জেলেপল্লির সাংরানী ও মিনু বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ; দিন আনি দিন খায়। বর্তমানে তেমন কোনো কাজ না থাকাই সংসার চালানোর জন্য শামুক কুড়াচ্ছি। তবে এ বছর পানিতে নামলেই গাঁ চুলকায়। কিন্তু বাধ্য হয়ে এ কাজ করছি।’

শামুক ব্যবসায়ী শার্শার স্বরূপদহ ওয়াপদা খালপাড়ার আকরাম হোসেনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়। তিনি বলেন, শার্শার ১১টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক নি¤œ আয়ের পরিবারের কাছ থেকে প্রতিদিন ৬৫-৭০ মণ শামুক ক্রয় করেন। এ শামুক তিনি খুলনার ডুমুরিয়ার চেঁচুড়িয়া কপালিয়া ব্রিজ বাজার শামুকের আড়তে বিক্রি করেন।

তিনি জানান, ‘শামুক মেশিনে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে ঘেরে বাগদা ও গলদা চিংড়ি মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ বছর পানি বিষাক্ত। শামুক সংগ্রকারীদের শরীরে চুলকানির কারণে তাদের সংখ্যা কমেছে। বিগত বছরগুলোয় নিম্ন আয়ের পাঁচ শতাধিক পরিবারেব সদস্য শামুক সংগ্রহের কাজ করতেন। সে সময় প্রতিদিন উপজেলায় সংগ্রহকৃত শামুকের পরিমাণ ছিল ১৫০-১৬০ মণ।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..