সারা বাংলা

শার্শায় ৩৫ শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে

প্রতিনিধি, যশোর: যশোরের শার্শা উপজেলার পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ শিক্ষার্থী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে স্কুলেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। অসুস্থদের মধ্যে ১০ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে, ছয়জনকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না ইয়াসমিন মিম, হালিমা, রাসেল, তাবাসসুম হাবিব ঋতু, রিমা, ষষ্ঠ শ্রেণির আলিফা ইয়াসমিন, জান্নাতুল, শাহরিয়া ইয়াসমিন নিশি, সপ্তম শ্রেণির মুন্নি এবং দশম শ্রেণির স্মৃতি। অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, কৃমিনাশকের প্রভাবে তারা অসুস্থ হয়নি, ম্যাস হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরা।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শামসুন্নাহার, সালেহা বেগম, আবদুল মজিদ, হাবিবুর রহমান, সাদিকুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগে পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কৃমিনাশক খাওয়ানো হয়। ওষুধ খাওয়ার পর বাচ্চারা অসুস্থ বোধ করতে থাকে। গতকাল সকাল থেকে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অভিভাবকদের মধ্যে শামসুন্নাহার অভিযোগ করেন, ‘এত ছেলেমেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। অথচ প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের কোনো মাথাব্যথা নেই। যেন, কিছুই ঘটেনি। পরে বাধ্য হয়ে আমি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে ফোন দেই। তিনি গাড়ি পাঠালে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথার শুরুতেই ফোন বন্ধ করে দেন। স্কুলের হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক মমিনুর রহমান জানান, কৃমির ওষুধ সেবনের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। কী কারণে ঘটেছে, তা তার জানা নেই।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার সাহা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তাদের সবার অবস্থাই ভালো। কৃমিনাশক খাওয়ানো হয়েছে গত ৬ এপ্রিল সকালে। ওই ওষুধে যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, তা ১২ ঘণ্টার মধ্যে হবে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এম আবদুর রশিদ জানান, এটি একটি রোগ। যার নাম ম্যাস হিস্টিরিয়া। মূলত ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হয়েছে আতঙ্কে। কৃমিনাশক ওষুধ সেবনে এ ঘটনা ঘটার কোনো কারণ নেই। অসুস্থরা সবাই শঙ্কামুক্ত।
যশোরের সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার রায় জানান, কৃষিনাশক ট্যাবলেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে সেটা ঠিক না। ম্যাস হিস্টিরিয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হলে সারা দেশে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হবে। একযোগে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মণ্ডল জানান, তিনি খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সবাইকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ..