প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শাস্তি নয়, সতর্ক করতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‌্যাব এবং এ বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বাংলাদেশকে শাস্তি দেয়ার জন্য নয়, সতর্ক করার জন্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিষয়ে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশকে একইভাবে বিবেচনা করাÑআমি বলেছি বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

গতকাল সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে মেগান ফ্রান্সিস উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে দু’দেশের কৃষি, অর্থনীতি, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার মানবাধিকারের বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ সফলভাবে জঙ্গি দমন করতে পেরেছে বলে তারা প্রশংসা করেছে। তাদের ধারণা কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। সেটার উন্নতি হওয়া দরকার। তারা আশা করে এটা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমাদের দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশ কঠোরভাবে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করেছে। কিছু জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হয়তো ভুল করেছে, সেজন্য ১৯০ র‌্যাব কর্মকর্তার শাস্তি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলবেন, যেন দ্রুত এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।’

সাক্ষাৎকালে দেশের কৃষি উৎপাদনের সাফল্যের কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৃষি খাতে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা সিস্টেম (এনএআরএস) উন্নয়নে বেশ সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ গত ৫০ বছরে কৃষি উৎপাদনে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।’

ঢাকায় নিযুক্ত বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৃষি খাতে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। দু’দেশের মধ্যে কৃষি বাণিজ্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের ২৬তম বাজার। সামনের দিনগুলোয় কৃষি খাতে সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’