শাহরাস্তিতে ডাকাতিয়া ভরাট করে বালি বাণিজ্য

বেলায়েত সুমন, চাঁদপুর: চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর অংশ ভরাট করে গড়ে উঠেছে বালিমহাল। নদী ভরাট করে এর পানিপ্রবাহে প্রতিন্ধকতা করার পরও সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন নির্বিকার। সংশ্লিষ্টদের নির্লিপ্ততায় হুমকিতে রয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছিখুটিয়া ব্রিজটি।

সরেজমিনে জানা গেছে, ছিখুটিয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশে মেসার্স খায়ের এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বালি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও ডাকাতিয়ার জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালি বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। ধীরে ধীরে এ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বালি ফেলে নদীর জায়গা ভরাট করে নিজের দখলে নেয়। বালিমহাল গড়ে তোলার কারণে পানিপ্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নাব্য সংকট হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলার পুরোনো ডাকাতিয়া-নতুন ডাকাতিয়া নদী সেচ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের (২০১৭-২০) আওতায় ডাকাতিয়া খনন করা হলেও রহস্যজনক কারণে শাহরাস্তিতে মেসার্স খায়ের এন্টারপ্রাইজের দখলকৃত ছিখুটিয়া ব্রিজের নিচের ভরাট করা নদীর অংশ অপসারণ করে নদীর গতিপথ উš§ুক্ত করা হয়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আওতাভুক্ত চাঁদপুর নদীবন্দরের কর্মসংস্থানের সার্বিক চিত্রের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর শাখার নিয়ন্ত্রণাধীন নৌপথগুলোয় নানা ধরনের নৌ সহায়ক যন্ত্রপাতি স্ক্রেরিক্যাল বয়া, লাইটেট বয়া, টাওয়ার বিকন, পিসিপোল, আয়রন মার্কা, বাঁশের মার্কাসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে নৌপথে দিনে ও রাতে সারা বছর নৌযান চলাচলের জন্য সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো অবৈধভাবে নদী ভরাট করে বালিমহাল গড়ে তোলায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মাসিক বখরা পাওয়ার সুবাধে টুঁ শব্দটিও করছেন না। এমনকি স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। চাঁদপুর নৌবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন নৌপথে সৃষ্ট বাধাবিঘœ অপসারণ করার কথা থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায়।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নদীর অবৈধ দখল, পানি ও পরিবেশ দূষণ, শিল্পকারখানার নদী দূষণ, অবৈধ কাঠামো নির্মাণ ও নানা অনিয়ম রোধে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, নদীর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নৌ-পরিবহনযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। প্রয়োজনে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন আইন ২০১৩-এর ২৯ নম্বর আইনে ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত না হওয়ায় অবাধে নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে একটি প্রভাবশালী  গোষ্ঠী।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে মেসার্স খায়ের এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ মাসুদ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আপনি এসে সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে আমার সঙ্গে কথা বলেন। আর এস, সিএস, বিএসে এই জায়গার মালিক আমি। নদীতে আমি আরও ৫ থেকে ১০ ফিট জায়গা পাই। আপনি নিউজ করলে কি আসবে ইউএনও? এসিল্যান্ড? আপনার যা করার দরকার তা করেন, আমি চ্যালেঞ্জে আছি।’

রাতের আঁধারে শাহরাস্তির এক সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে তার বাড়ি তো আপনিই গিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, হ্যাঁ তখন আমি না বুঝে গিয়েছিলাম। এখন আমার সার্ভেয়ার আমাকে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন। ��T�߄

সর্বশেষ..