শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি রোধে ব্যবস্থা নিন

শিক্ষক নিয়োগে ঘুষদানের অভিযোগ পুরোনো। দুর্নীতি প্রতিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিবছরই শিক্ষা খাতে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে। সরকার ও শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদনকে বরাবরই পক্ষপাতমূলক ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ করা হয়। এটি একপ্রকার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

ঢালাওভাবে টিআইবির ‘প্রতিবেদন’ অসত্য বলে দাবি করা হয়, কিন্তু কখনও প্রতিবেদনের সত্যতা যাছাই করে দেখা হয় না। অনেকের ধারণা, টিআইবির প্রতিবেদনের সত্যতা আছে বলেই হয়তো বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে সত্য হলেও তা নিরসনে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি গৌণ হয়ে যায়।

সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে যে দুর্নীতি হয়, তা কেউ অস্বীকার করবেন না। দুর্নীতি কম-বেশি থাকবে। কিন্তু এটি মোটেই নেই, তা বলা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। শিক্ষকরাও এ দেশের সমাজ ও সংস্কৃতিরই অংশ।

শিক্ষক নিয়োগের জন্য সব দেশে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ নীতিমালা বা বিধি রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া কয় ধাপে সম্পন্ন হবে, কোন ধাপে কী কর্ম সম্পাদিত হবে, কীভাবে হবে, নিয়োগ পরীক্ষায় সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকে। আমাদের দেশেও কাগজে-কলমে নিয়োগবিধি আছে। এই বিধি কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে মেনে চলা হয়, সেটিই বড় প্রশ্ন। তাই নীতিমালা থাকলেও সেটির মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ করা যায় না।

টিআইবি বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্র তুলে ধরে বলেছে, মাধ্যমিকের শিক্ষক হতে ঘুষ লাগে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা খাতে গবেষণা করে টিআইবি জানিয়েছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে বেসরকারি স্কুলে পদভেদে শিক্ষক নিয়োগে সাড়ে তিন লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়। আর এ অর্থ নিয়ে থাকে রাজনৈতিক নেতা ও গভর্নিং বডি।

হয়তো এবারও এই গবেষণা প্রতিবেদনকে ‘অমূলক’ আখ্যা দেয়া হবে। কিন্তু এতে প্রকৃত অবস্থাই প্রকাশ পেয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ছায়া তদন্ত করে দেখতে পারে। শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, অন্য খাতেও নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় হয়; যেমন শিক্ষক এমপিওভুক্তি, বদলি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা, পাঠদান নবায়ন, স্বীকৃতি নবায়ন প্রভৃতি। জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা খুবই গতানুগতিক ও সনদসর্বস্ব হওয়ায় আশানুরূপ ফললাভ হচ্ছে না। মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ জনসম্পদ গড়ার প্রধান শক্তি দক্ষ নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। শিক্ষকের নৈতিক ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য বিজ্ঞানসম্মত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করা উচিত। তাই নিয়োগে দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় শাস্তিসহ দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করতে হবে।


সর্বশেষ..