প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়াস নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার ফের সংঘর্ষে জড়িত হয়েছেন দুই ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কর্মীরা। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কার্জন হল ও দোয়েল চত্বরের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের দাবি, ‘শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ছাত্রদলকে প্রতিহত করেছেন তারা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যাতে ঢুকতে না পারেন, সেজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই পাহারায় ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত ছাত্রদল ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেনি। খবরের তথ্যমতে, ছাত্রলীগের হামলা ও মারধর থেকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রক্ষা পাননি। সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তিন আইনজীবীও হামলার শিকার হয়েছেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রদলের যাকে পেয়েছেন, তাকেই পিটিয়েছেন। রেহাই পাননি নিজ দলের কর্মীরাও। সুপ্রিম কোর্টের সামনে চিনতে না পারায় ছাত্রলীগেরই ভিন্ন ভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা একে অন্যকে পিটিয়েছেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে।

বড় দুই রাজনৈতিক দলের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সহিংসতা মোটেই কাম্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার। দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছাত্রদল কতটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারত, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। গত ৭ মে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, বিরোধী দল স্বাধীনভাবে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করতে পারবে। কোনো বাধা দেয়া হবে না। সে হিসেবে বলা যায়, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংগঠনের নির্দেশনা মানেনি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি অনুযায়ী ছাত্রলীগ কর্মীরাই প্রকশ্যে অস্ত্রশস্ত্র বহন করেছেন। লক্ষণীয় বিষয় ছিল সামনের সারিতে থাকা প্রায় সবার মাথায় হেলমেট ছিল।

শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা কোনোমতেই কাম্য নয়। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিরোধী দলকে দমন করার জন্য আমার ছাত্রবন্ধুরা যথেষ্ট।’ এ বক্তব্যের জন্য তাকে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হতে হয়েছে সর্বত্র। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেননি। দলের সাধারণ সম্পাদকও ‘স্বাধীনভাবে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করা যাবে’ বলে আশ্বস্ত করেছেন। ছাত্রলীগ হামলায় জড়িত না হয়ে সশস্ত্র বহিরাগত কিংবা প্রতিপক্ষ দলের কর্মীদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারত।

ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সাংঘর্ষিক অবস্থান ঠেকাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভ‚মিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রক্টরিয়াল টিমকে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পরিবেশ পরিষদ’ অকার্যকর রয়েছে। এটিকে সক্রিয় করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।