সম্পাদকীয়

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারে ব্যবস্থা নিন

ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী হতাহতের খবর নতুন নয়। ৬ এপ্রিল বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রিড বিম ধসে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মানসুরা বেগম নিহত হয়; আহত হয় আরও পাঁচ শিক্ষার্থী। ৯ এপ্রিল একই জেলার পৌর শহরের মধ্য বরগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ছাদের একাংশ ধসে পড়ে। এ সময় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা প্রায় প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা। যেখানে ছাদ ধসে পড়েছে, সেখানে বসেছিল শিক্ষার্থী রিফাত। স্কুলড্রেস পরে না-আসায় তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সে চলে যাওয়ার এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে ছাদ ধসের ঘটনা ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। হয়তো প্রাণহানি না হওয়ায় সেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। কিন্তু প্রাণহানি না ঘটলেও পরিত্যক্ত ভবনের ক্লাসে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এসব ঘটনা যে আমাদের সচেতন করছে নাÑসেটির উদাহরণ হতে পারে গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপরে রঙের প্রলেপ’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যাপীঠে একাডেমিক ও প্রশাসনিক চারটি ভবনই অতি-ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। তাই যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও রঙের প্রলেপ থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাচ্ছে না।
আমরা মনে করি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রঙের প্রলেপে ফাটলের সাময়িক দৃষ্টির আড়াল হতে পারে; কিন্তু চূড়ান্ত বিবেচনায় ঝুঁকি থেকেই যায়। এ অবস্থায় শিগগির ভবন সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অনেকেরই হয়তো মনে আছে, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মিলনায়তনে বিটিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিক নাটক দেখার সময় ছাদ ধসে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ৩৯ জন। জবি উপাচার্য বলেছেন, ‘জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে কোনো নতুন ভবন নির্মাণ না করেই। পুরোনো ভবনগুলো আরও পুরোনো হচ্ছে।’ প্রতিষ্ঠাকাল বিবেচনায় ঢাবির জগন্নাথ হলের সমবয়সী জবির একাডেমিক ভবন আর এ ভবনটিই সর্বাপেক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯১০ সালে ঢাকার কমিশনার স্যার রবার্ট নাথানের প্রচেষ্টায় অনুদান পাওয়া ৮০ হাজার টাকায় তৈরি হয় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের এ ভবন।
রাজধানীর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ চার ভবনে ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে ক’বছর ধরে, যা খুবই দুঃখজনক। সিমেন্ট ও রঙের প্রলেপে কোনো ভবন ঝুঁকিমুক্ত হয় না, এটি বরং প্রকৃত অবস্থা আড়ালের চেষ্টার নামান্তর। জবির ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..