সম্পাদকীয়

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হোক

 

গতকাল শেয়ার বিজে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তিনি প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বলেছেন, সততার সঙ্গে ও সঠিকভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে। কাজের মাধ্যমেই সুনাম অর্জন করতে হবে। জনগণের টাকা অপচয় করা যাবে না। এক্ষেত্রে কোনো ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

তার এ কথায় ধরে নেওয়া যায়, এক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েই থাকে। ঘুষ-দুর্নীতি কোনো ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়, সেটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো ক্ষেত্রেই হোক। কিছুদিন আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এ নিয়ে ওই সময় বেশ সমালোচনা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য ভবন নির্মাণে নিম্নমানের রড, সিমেন্ট, বালুসহ অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার হতে দেখা যায়। আরও অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ হয় না। মেয়াদ বাড়িয়ে অতিরিক্ত অর্থ ছাড় করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় বাড়াতে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সিংহভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলে অর্থ আদায়ের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান খতিয়ে দেখতে পারে।

মানসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ না হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ রানা প্লাজা ধস। এর পর তৈরি পোশাক খাতের আমদানিকারকদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব লক্ষ করা গেছে। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা এখন এ খাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেই দাবি করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। কয়েকদিন আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে। তারা গবেষণায় দেখান, একজন প্রভাষক নিয়োগে তিন থেকে ২০ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়।

উল্লেখ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। এর অধীন দেশে তিন হাজার বিদ্যালয় ভবন, এক হাজার ৫০০ কলেজ ও ৭০টি বৃহৎ কলেজ ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় মডেল স্কুল, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা ভবন নির্মাণ চলছে। এসবসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ সঠিকভাবে করবে সংশ্লিষ্ট অধিদফতর এমনটাই প্রত্যাশা। নির্মাণের আগে যথাযথভাবে মার্স্টারপ্ল্যান তৈরি করে ত্রুটিমুক্ত ভবন নির্মাণ সময়ের দাবি। সরকার এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়িয়ে ঘুষ-দুর্নীতি রোধ করবে এটাই কাম্য।

সর্বশেষ..