মত-বিশ্লেষণ

শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

বিদ্যালয়ে শিশুদের ধরে রাখতে শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলেমেয়েদের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সমতা তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। সফলতার দিকগুলো হলো সব শিশুর প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হওয়ার সুযোগ, শ্রেণিকক্ষে লৈঙ্গিক সমতা প্রতিষ্ঠা এবং অতি উচ্চ হারে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তর শেষ করা। 

প্রাথমিক স্তরে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা শিক্ষার মান। নি¤œমানের কারণে শিশুরা উপযুক্ত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এবং একপর্যায়ে ঝরে পড়ে।    

পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, অপুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাÑএ সবই শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বহু বিদ্যালয়ে ধারণক্ষমতার চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। এর কারণে ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই দিনে দুই শিফট চালায়। শিক্ষকদের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, তাদের ওপর নজর রাখা এবং জবাবদিহির ঘাটতিও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

২০১৩ সালের ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট অনুসারে, পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া প্রতি চার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন গণিত ও বাংলায় উপযুক্ত দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে। ২০১১ সালে প্রাথমিক শেষ করা প্রতি দুই ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনেরও কম এবং প্রতি তিন মেয়ের মধ্যে একজনেরও কম কার্যত লেখাপড়া শিখেছে। প্রাথমিক স্তরে ভর্তির হার ৯৮ শতাংশ হলেও মাত্র ৬৭ শতাংশ বা তার চেয়ে কম হারে শিক্ষার্থী মাধ্যমিক শ্রেণিতে পৌঁছানোর যোগ্যতা অর্জন করে। আর উচ্চ শিক্ষায় পৌঁছায় মাত্র ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ইউনিসেফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঝরে পড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি চতুর্থ শ্রেণিতে। এ শ্রেণিটি প্রকৃতপক্ষে প্রাথমিক সমাপনীর প্রস্তুতি পর্ব। যে শিশুরা শিক্ষায় দুর্বল, তাদের প্রয়োজন শ্রেণিকক্ষে বাড়তি সহযোগিতা।

স্কুলে যাওয়ার উপযুক্ত প্রায় ৬২ লাখ শিশু এখনও শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। তাদের বেশিরভাগের বাস শহরের বস্তি বা দুর্গম অঞ্চলে। তাদের মধ্যে ৪৬ লাখ শিশুই প্রাথমিক স্কুলে যাওয়ার বয়সি।

আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগ্রহণে দুর্বলতা। সে কারণেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় পর্যায় থেকে তারা ঝরে পড়ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক হলেও বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অভিভাবকের কাছ থেকে যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তা বন্ধ করা প্রয়োজন।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..