মত-বিশ্লেষণ

শিক্ষাব্যবস্থার গলদ দূর হোক

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষক সংকট বহুদিনের। সুরাহা নেই। শিক্ষার্থীদের বেহাল দশা। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষকরা প্রায়ই উপস্থিত থাকে না। সরকারি চাকরি হওয়ার সুবাদে তাদের চাকরি হারানোর ভয় নেই বললেই চলে। ফেনীর পরশুরাম ডিগ্রি কলেজে এমনই এক বিচিত্র দশা দেখতে পেলাম। সেখানে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক শাখার ১১ বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। আবার কলেজটিতে অধ্যক্ষও নেই। মোট ১৬টি প্রভাষক পদ শূন্য। তবে এই চিত্র কিন্তু সারা দেশেরই বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বিরাজ করছে। সারা দেশে বিভিন্ন শ্রেণিতে ১২ হাজার ৫১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক নেই। তাহলে এসব পদের বিপরীতে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে, তারা কীভাবে পাঠ গ্রহণ করছে? সে প্রশ্নের কোনো উত্তর আসে না। এরই মধ্যে সারা দেশেই কিছু দিন পরপর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা চলছে। এমনকি নামকরা প্রতিষ্ঠানে নতুন বিভাগ খোলা হচ্ছে কিন্তু তার বিপরীতে শিক্ষক সংকট থেকেই যাচ্ছে।

এমন করুণ পরিস্থিতির মধ্যেও কীভাবে সারা দেশে স্কুল-কলেজে পরীক্ষার ফল আশাব্যঞ্জক হয় তা বুঝে আসে না। অহরহ এ প্লাস, এ বা এ মাইনাস ফলাফলের ছড়াছড়ি। গা শিউরে ওঠে যখন শুনি দেশের সরকারি জিলা স্কুলগুলোতেও শিক্ষকরা তাকেই বেশি নম্বর দিয়ে থাকে যে শিক্ষার্থী তার কাছে প্রাইভেট পড়ে। শিক্ষকদের এমন খামখেয়ালি আচরণ দেখার কেউ নেই। কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ হয় আবার খুলে যায়। এই টম অ্যান্ড জেরির খেলার পেছনে কী আছে, তা জাতির বিবেকমান মানুষের মাথায়ও ধরে না। আবার এই সারশূন্য দশা নিয়েই দেশের শিক্ষার হার বেড়ে চলেছে। পরিষ্কার বোঝা যায়, শিক্ষার হারে সংখ্যার দাপট থাকলেও গুণের প্রশ্নে নষ্টশ্রী।

প্রশ্ন ফাঁসের সংস্কৃতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বিষফোঁড়া। এটা জাতির মেরুদণ্ডকে উইপোকার মতো খেয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু বড় বড় ডিজিটাল চোখ ফাঁকি দিয়েও প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হয়, আর আইনশৃঙ্খলার পোশাক পড়ে অথর্বের মতো নিরাপত্তাদানকারীরা জবাবহীন থাকে তা বুঝে আসে না। এভাবে সাক্ষরতা বাড়িয়ে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হলেও গুণগত মান কি বাড়বে? বাড়বে না। জাতি একটি সারশূন্য দশায় তলানিতে থিতু হতে যাচ্ছে। অথচ টেকসই উন্নয়নে জনশক্তির গুণগত শিক্ষার বিকল্প নেই। মাঝারি দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকের হার কমেছে এক দশমিক তিন শতাংশ, যা উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমন টালমাটাল দশা থেকে দেশ কবে বেরিয়ে আসবে তা আমার মতো সাধারণের জানা নেই। তবে দেশের সুশীল সমাজ ও কর্তাব্যক্তিরা এ নিয়ে ভাববে বলে আমি আশা রাখি।

রফিকুল ইসলাম

কাজীপাড়া, ঢাকা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..