Print Date & Time : 11 May 2021 Tuesday 12:59 pm

শিক্ষা উম্মুক্ত করতে দূরশিক্ষণ মূল্যবান হাতিয়ার হতে পারে

প্রকাশ: March 4, 2021 সময়- 01:16 am

কভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে টিকা নিয়ে দ্বিধা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের জন্য শীর্ষ ১০ হুমকির অন্যতম হচ্ছে টিকা নিয়ে দ্বিধা এবং বিশ্বাস ছাড়া টিকা একজন চিকিৎসকের ক্যাবিনেটে থাকা ওষুধের শিশি ছাড়া আর কিছুই নয়।

স্কুলগুলোর জন্য তাদের শিক্ষার্থীদের কথা শোনার এবং তাদের অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা উন্নত করার উপায় খুঁজে বের করার এটাই সম্ভবত উপযুক্ত সময়। এমনকি মহামারি চলে গেলেও শিক্ষাগ্রহণকে সবার জন্য উম্মুক্ত ও নমনীয় করার ক্ষেত্রে দূরশিক্ষণ একটি মূল্যবান হাতিয়ার হতে পারে। ডিজিটাল বিভাজন দূর করা গেলে তা সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার পথ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

২০২০ সালের শুরুর দিকে স্কুল বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সময়ে বিশ্বের স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৩০ শতাংশ দূরবর্তী শিক্ষা নিতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে অর্ধেকের কিছু বেশি পরিবারে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

এই শিশুরা সেই একই দলভুক্ত, যাদের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় ১০ বছর বয়সী শিশুদের ৫০ শতাংশেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পরও একটি সাধারণ গল্প পড়তে ও বুঝতে পারে না, যা শিক্ষাক্ষেত্রে বৈশ্বিক সংকটকে প্রতিফলিত করে। আর এই ডিজিটাল বিভাজন আমরা ঘোচাতে না পারলে দ্রুত বেড়ে ওঠা তরুণ জনগোষ্ঠীর এই দলটি পেছনেই পড়ে থাকবে।

কভিড এই  জরুরি প্রয়োজন আরও বাড়িয়েছে। কভিডের মাঝে এবং এর পরে প্রতিটি শিশু ও স্কুলকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করতে এবং তাদের ভেতরে থাকা সম্ভাবনা অনুধাবনের জন্য যথাযথ দক্ষতা গড়ে তোলায় তাদের সহায়তা করতে নতুন ডিজিটাল উপকরণ প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা দারুণ এক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি, যা ‘একটি প্রজন্মের একবারই’ আসে।

কী করতে হবে: প্রথমে ও সর্বাগ্রে সরকারগুলোকে বিদ্যালয় আবার খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং নিরাপদে বিদ্যালয় চালু করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের এই বিরতি আমরা কীভাবে শিক্ষা প্রদান করি, সে বিষয়ে আবার চিন্তা করার সময়ও দিয়েছে।

ইউনিসেফের ‘রিইমাজিন এডুকেশন’ উদ্যোগটি ডিজিটাল শিক্ষা, ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন, ডিভাইস, সাশ্রয়ী উপাত্ত এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও দক্ষতার বিকাশে বিপ্লব ঘটাচ্ছে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে