সম্পাদকীয়

শিক্ষা ও কর্ম খাতে নিবিড় সম্পর্ক গড়ায় উদ্যোগ নিন

প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে। এ উদ্যোগে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কর্ম খাতের সম্পর্ক উন্নয়নে তেমন কোনো পরিকল্পনা রাখা হয়নি। দেশে এখন জিডিপি, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও আমদানি ব্যয় বেড়ে চলেছে। বেড়ে চলেছে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু সেই অনুপাতে অভ্যন্তরীণ প্রকল্পে দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে না, এমনকি রেমিট্যান্সও বাড়ছে না। উপরন্তু দেশি-বিদেশি প্রকল্পগুলো বিদেশ থেকে জনশক্তি এনে কাজ করছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো কর্মমুখী শিক্ষা ও দক্ষতার অভাব। এ ব্যাপারে বিভিন্ন গবেষণায় দেশের শিক্ষিত জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে নি¤œপ্রবণতা উঠে এসেছে। গতকাল উচ্চশিক্ষার মান অর্জন-সম্পর্কিত এক সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ফরাস উদ্দিনের বক্তৃতায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
২০০০ থেকে ২০১৬ সালে মাঝারি মানের দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকের হার কমেছে এক দশমিক তিন শতাংশ। এটা উন্নয়নশীল আট দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের চাকরি বাজারে তাই তাদের উপস্থিতিও সবচেয়ে কম। অন্যদিকে মাঝারি মানের জনবলের একটি অংশ নিচের ধাপের বেতন নিয়ে চাকরি করাসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে এক দশমিক ১৫ শতাংশ স্বল্পদক্ষ শ্রমিক বেড়েছে, যা আটটি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাঝারি মানের জনবল কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
বিআইডিএসের আলোচনা অনুষ্ঠানের তথ্যানুসারে এ বিদেশি দক্ষ জনবল প্রতিবছর চার-পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশে প্রতিবছর ১৮ থেকে ২১ লাখ তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও অর্ধেকের বেশি বেকার থাকছে। বর্তমানে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি তরুণের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এই বৃহৎ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ হিসেবে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা জানা যায়। কিন্তু পরিকল্পনাটির সম্ভাবনা ব্যবস্থাপনায় টেকসই সামঞ্জস্যবিধানে ঘোষণা-পরবর্তী প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন বিভাগ ও তার কার্যক্রমে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। দেশে ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা উচ্চশিক্ষিত তরুণ বেকারত্ব, নি¤œমান ও বিষয়বহির্ভূত পেশায় অসন্তুষ্টিতে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ চালু করা হলেও কর্মবাজারে তার প্রভাব নেই। ফলে সরকারি-বেসরকারি চাকরিগুলোতে বিষয়সংশ্লিষ্ট খাতেও নতুন বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারেন না। কার্যত উচ্চশিক্ষাকে সর্বজনীন না করে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার করা অপরিহার্য।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমে কর্মমুখী পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম খাতের নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগী হওয়ার বিকল্প নেই।

সর্বশেষ..