Print Date & Time : 16 August 2022 Tuesday 3:05 am

 ‘শিগগিরই আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুব শিগগিরই আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা জানান।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বৃহত্তম জোটের শীর্ষ দল বিএনপিÑএই ভাবনাকে (জাতীয় ঐক্য) কেন্দ্র করে একটা বক্তব্য বা বিবৃতি যার মধ্য দিয়ে সবাই একত্রিত হবে এবং আগামী দিন পথ চলবে। আমার মনে হয় সেই প্রচেষ্টা ও ভাবনা আমাদের মধ্যে চলমান। যেকোনো মুহূর্তে আমরা জাতির সামনে সেটা উপস্থাপন করব।’

‘আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বন্দি এই ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত  নেই এবং তার অবর্তমানে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব তাড়াতাড়ি আপনাদের সামনে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা উপস্থাপন করবেন। এই ব্যাপারে (আন্দোলনের রূপরেখা) আমাদের প্রস্তুতি শেষ প্রান্তে’ বলেন বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ চলার ক্ষেত্রে সবাইকে একসঙ্গে যেটা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উক্তি ছিল গত কাউন্সিলে যে, নানান মানুষ নানা মত, দেশ বাঁচাতে ঐক্যমত। আমার মনে হয় যে, আমাদের নানা ভাবনা থেকে একটাই ভাবনা হচ্ছে, আমরা মাথা উঁচু করে এক পথেই চলব।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির মধ্যে যখন সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠবে তখনই পরাশক্তি বা ষড়যন্ত্রকারীরা দুর্বল হবে। আর জাতীয়তাবাদী শক্তি যখন খণ্ড-বিখণ্ড থাকে তখন সুবিধাবাদী শক্তি শক্তিশালী হবে, লুটপাট বাড়বে, দুর্নীতি বাড়বে।’

সরকার হটানো ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা কী চাচ্ছি? এই সরকারের পতন চাচ্ছি। এই যে সংসদ আছে তা বাতিল করতে হবে, এ সংসদ চলতে পারবে না। আমাদের স্পষ্ট কথা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি। আন্দোলনের এই গতিটা এই সরকারের পতনের জন্য যথেষ্ট না। গতি বাড়াতে হবে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে যেমন পেছানোর নিয়ম আছে সামনে যাওয়ারও নিয়ম আছে। এখন আমাদের কৌশল হচ্ছে আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত হবে।’

এলডিপির সভাপতি আবদুল করীম আব্বাসীর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ,

 ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম নেতৃত্বাধীন এলডিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা সহসভাপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, উপদেষ্টা ফরিদ আমিন, যুগ্ম মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. ইব্রাহিম রওনক, গণতান্ত্রিক যুবদলের সাইফুল ইসলাম বাবু, মোহাম্মদ ফয়সাল, গণতান্ত্রিক ওলামা দলের মাওলানা বদরুদ্দোজা, মাওলানা আবদুল হাই নোমান, মহানগর দক্ষিণের এ এস এম মহিউদ্দিনসহ ২১৫ জন নেতাকর্মী আবদুল করীম আব্বাসী নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগ দেন।