বাণিজ্য সংবাদ

শিগগিরই এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের প্রক্রিয়া শুরু

চামড়া শিল্পনগরীর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) সব ধরনের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে। এরপর আগামী বছরের শুরুতেই লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের জন্য নিরীক্ষার আমন্ত্রণ জানানো হবে। বর্তমানে যে গতিতে চামড়া শিল্পনগরীর কাজ চলছে, তাতে নতুন বছরের শুরুতে বাংলাদেশ চামড়াশিল্পের জন্য এলডব্লিউজি সনদ অর্জনে সক্ষম হবে। গতকাল ঢাকা চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা জানানো হয়। শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এতে সভাপতিত্ব করেন। সাভারের শিল্পনগরীর সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান, বুয়েটের টিম লিডার অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার হোসেন, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টে সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিশ্ড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী জিতেন্দ্রনাথ পাল, এপেক্স গ্রুপের প্রতিনিধি মেজর (অব.) মির্জা আনোয়ারুল কবির উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চামড়া শিল্পনগরীর উন্নয়ন কাজের সর্বশেষ অবস্থা বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়। এ সময় জানানো হয়, এরই মধ্যে সিইটিপির কাজ ৯৮ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিইটিপির চারটি মডিউল চালু রয়েছে এবং এগুলো বর্জ্য পরিশোধনের কাজ করছে। সিইটিপির কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করার জন্য যন্ত্রপাতিসহ আমদানিযোগ্য পণ্য এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এগুলো স্থাপনের কাজ চলছে। সিইটিপির ডি-ওয়াটারিং হাউজের ৯টি ইউনিটের মধ্যে তিনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এগুলোতে সøাজ কেক তৈরি হচ্ছে। বাকি ছয়টির কাজ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, সিইটিপির ক্রোম সেপারেশনের লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সিইটিপিতে স্থাপিত সাতটি জেনারেটরের সবকটি সচল রয়েছে এবং সব পাম্প চালু আছে। এর সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি ও অটোমেশনের কাজ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। একই সঙ্গে শিল্পনগরীতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপনের লক্ষ্যে ড্রইং ও ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি নির্মাণের জন্য ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এছাড়া সিইটিপির অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সভায় এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের লক্ষ্যে এখন থেকে মক অডিট পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ অডিটের ফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক গুণগত পরিবর্তনের জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাই-প্রোডাক্ট উৎপাদনকারীদের অনুকূলে জায়গা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যেসব প্লটে এখনও ট্যানারি কারখানা স্থাপন করা হয়নি, সেগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে বাই-প্রোডাক্ট উৎপাদনকারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
সভায় শিল্পমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়াশিল্পের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যে কোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। যারা শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে কারখানা স্থাপন করেননি, তাদের প্লট বরাদ্দ বাতিল করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির বাস্তবায়ন কাজ সন্তোষজনক গতিতে এগিয়ে চলেছে। সরকার চামড়া খাতে রফতানি বাড়াতে সিইটিপির পাশাপাশি পুরো শিল্পনগরীকে এলডব্লিউজি সনদের আওতায় আনবে। এর মাধ্যমে চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাংলাদেশের রফতানি বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ..