দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শিগগিরই খুলছে না বিচ হ্যাচারির তালা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দীর্ঘ চার বছর বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিচ হ্যাচারি। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের কার্যক্রম। ফলে লোকসানের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে কোম্পানিটির কারখানা ভবন। এছাড়া কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক তৈরির জন্য কোম্পানির কিছু জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। ফলে সহসাই এ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বা কার্যক্রম চালু হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত লেকসান গুনছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পুঞ্জীভূত আয় ঋণাত্মক অবস্থায় চলে গেছে। সর্বশেষ হিসাবে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত লোকসান রয়েছে কোম্পানিটির। এদিকে উৎপাদনে না থাকা প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে ডিএসইর তালিকাচ্যুতির ঝুঁকিতে থাকা কোম্পানির তালিকায়। যে কোনো সময় তালিকাচুত্যির খবর আসতে পারে কোম্পানিটির।

অন্যদিকে কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছেÑএমন গুজবে শেয়ার কিনে বিপাকে পড়েছেন তালিকাভুক্ত বিচ হ্যাচারির বিনিয়োগকারীরা। গত বছরের মাঝামাঝি বাজারে গুজব রটে যে, বিচ হ্যাচারি ‘র‌্যাংগস গ্রুপে’র কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। সে সঙ্গে যুক্ত হয় রেণু উৎপাদন বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটির অন্য ব্যবসায় ঝুঁকে যাওয়ার খবর। তখন শেয়ারের দর ১২ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ টাকায় চলে যায়। বর্তমানে এ শেয়ার আবার ১২ টাকায় নেমে এসেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শেয়ারধারীরা।

অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ ও লোকসানে থাকার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর জেরে প্রতিষ্ঠানটি ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে নেমে গেছে।

কোম্পানির বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির সচিব নূর ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা অথবা ব্যবসায় পরিবর্তন আসছেÑএমন কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। কোনো একটি চক্র এ খবর ছড়িয়ে শেয়ার নিয়ে কারসাজি করেছে। সম্ভবত তারা এ গুজব কাজে লাগিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে। তবে আমরা অন্য ব্যবসা শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি খুব শিগগির এটা আরম্ভ করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই, যাতে শেয়ারের দর বাড়তে বা কমতে পারে।’

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘বিনিয়োগকারী মৌলভিত্তির বিচার না করে যদি গুজবে কান দিয়ে লেনদেন করে, তবে এটা তাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যারা এ বিষয়টির গুরুত্ব দেন না, তাদের এ সমস্যায় পড়তে হয়। আগে বহুবার তারা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এ থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় বিচ হ্যাচারি লিমিটেড। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মহেশখালী এলাকায় ৯ দশমিক শূন্য দুই একর জমির ওপর কোম্পানির হ্যাচারি। কোম্পানিটি চিংড়ি পোনা উৎপাদন ও বিপণন করে থাকে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।

সম্প্রতি উৎপাদন বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটির গত দুবছরের লেনদেন চিত্রে এ শেয়ার সর্বনি¤œ আট টাকা দরে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর বোনাস শেয়ার প্রদান করেছে কোম্পানিটি। ‘জেড’ ক্যাটেগরির এ প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ৩৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ রয়েছে পরিচালকদের কাছে। বাকি ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..