বিশ্ব সংবাদ

শিগগির করোনা দুর্বল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই: ডব্লিউএইচও

শেয়ার বিজ ডেস্ক : শিগগির করোনাভাইরাসের দুর্বল হয়ে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, এটি এখনও অনেক শক্তিশালী। ইতালিতে করোনাভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়েছে সেখানকার এক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার সংস্থার জরুরি পরিচালক মাইকেল রায়ান ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। খবর: রয়টার্স।

তিনি বলেন, সংক্রমণের ধরনে অথবা রোগের তীব্রতার দিক থেকে নতুন করোনাভাইরাস উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, এমনটি বলার মতো কোনো উপাত্ত এখনও মেলেনি। তিনি আরও বলেন, ‘সংক্রমণের সক্ষমতার দিক থেকে এর (ভাইরাস) কোনো পরিবর্তন হয়নি। তীব্রতার দিক থেকেও এটি বদলায়নি।’

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবর্তন এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে নতুন এ করোনাভাইরাসের শক্তি কমার কোনো লক্ষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা দেখছেন না। কোভিড-১৯ মহামারিতে এ পর্যন্ত তিন লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের সংক্রামক রোগের অধ্যাপক মার্টিন হিবার্ড বলেন, কোভিড-১৯-এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনগুলো বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ যে গবেষণাগুলো এ পর্যন্ত হয়েছে, তাতে এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যাতে বলা যায় এটি কোন দিক দিয়ে দুর্বল হয়েছে বা এখন ‘কম মারাত্মক’।

তিনি বলেন, ‘৩৫ হাজারের বেশি ভাইরাসের জিনোমের উপাত্ত ঘেঁটে এখন পর্যন্ত তীব্রতার পার্থক্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

ইতালিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত জাঙ্গরিল্লো বলছেন, তার সহকর্মী, মাসিসমো ক্লেমেন্তি পরিচালিত একটি গবেষণা তার মন্তব্যকে সমর্থন করে। আগামী সপ্তাহে সেই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই বলিনি ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়েছে। আমরা বলেছিলাম, ভাইরাস ও সংক্রমিতদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া নিশ্চিতভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।’ জাঙ্গরিল্লোর মতে, এটি ভাইরাসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে হতে পারে, যা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। অথবা সংক্রমিতদের আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণেও তা হতে পারে।

সান রাফায়েলে হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি এবং ভাইরোলজি পরীক্ষাগারের পরিচালক ক্লেমেন্তি তার গবেষণায় মিলানের ওই হাসপাতালের কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা থেকে মার্চ মাসে সংগ্রহ করা ভাইরাসের নমুনার সঙ্গে মে মাসের নমুনার তুলনা করেছেন।

জাঙ্গরিল্লো বলেন, ‘ফলাফলটি দ্ব্যর্থহীন ছিল। গত মাসে ভর্তি হওয়া রোগীদের তুলনায় মার্চ মাসে ভর্তি হওয়া রোগীদের ভাইরাল লোডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।’ কিন্তু গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ভাইরাস রিসার্চের অস্কার ম্যাকলিন বলেন, আগের বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলোর কিছুই ভাইরাসটির দুর্বল হয়ে পড়ার দাবি সমর্থন করে না। আবার জেনেটিক দিক বিচার করেও এটি যুক্তিগ্রাহ্য বলে মনে হচ্ছে না।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েক ফরেস্ট ব্যাপটিস্ট মেডিকেল সেন্টার, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থওয়েল হেলথের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা বলছেন, তারাও এমন কোনো প্রমাণ পাননি যাতে বলা যায় ভাইরাসটি বদলে গেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..