প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শিগগির সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নির্ধারিত সময়ের আগেই মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে দেয়াল নির্মাণ ইস্যুতে মেক্সিকোর পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস ভিদাগারাভ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় রফতানি করা সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।  খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়, আগামী মাস থেকেই তারা প্রস্তাবিত নকশা গ্রহণের কাজ শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিভাগ ও সীমান্ত রক্ষা সংস্থা জানায়, তারা আগামী ৬ মার্চের মধ্যে দেয়াল নির্মাণের নকশা জমা দেওয়ার আহ্বান জানাবে।

প্রস্তাব জমা দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্য থেকে ভালো কোম্পানি বাছাই করে ২০ মার্চের মধ্যে একটি শর্টলিস্ট করে তাদের ডাকা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দফতর জানিয়েছে, মেক্সিকো সীমান্তে এক হাজার মাইল দীর্ঘ দেয়াল নির্মাণের জন্য ২ হাজার ১৫০ কোটি ডলার ব্যয় হবে, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

শুক্রবার ম্যারিল্যান্ডে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কংগ্রেসের (সিপিএসি) বার্ষিক সম্মেলনে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর শিগগির কাজ শুরুর কথা বলা হয়। ওই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ আগামী মার্চে শুরু হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দফতর।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান জন কেরির মেক্সিকো সফরের একদিন পরই সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ বাস্তবায়ন বিষয়ে বক্তব্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই এবং শিগগির মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণকাজ শুরু হবে।

কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কংগ্রেসে ডোনাল্ড ট্রাম্প দেয়াল নির্মাণে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরলে রক্ষণশীল সমর্থকরা সেই বক্তব্যের সমর্থনে স্লোগান দেন।

দেয়াল তোলার এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে মেক্সিকো; কিন্তু সেদিকে নজর না দিয়ে অভিবাসী ঠেকাতে তার আগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেন ট্রাম্প।

রক্ষণশীল নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আমেরিকা থেকে বাজে লোকদের দূরে রাখার ব্যাপারে শিগগির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর বড় অংশই মেক্সিকো থেকে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করা হয়। ফলে অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মেক্সিকো; দেশটিতে মানুষের চাপ বাড়বে; বেকার সমস্যা দেখা দেবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় অভিবাসী ইস্যুতে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল মেক্সিকো।