দিনের খবর সারা বাংলা

শিবপুরে সবজির চারা বিক্রিতে ভাগ্য ফিরছে কৃষকের

শরীফ ইকবাল রাসেল, নরসিংদী: নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে সবজি চাষের প্রস্তুতি হিসেবে এখন চারা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এর মধ্যে জেলার শিবপুর উপজেলায় শীতকালীন সবজির চারা বিক্রয় করে বদলে গেছে বহু কৃষকের ভাগ্য। সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের কুন্দারপাড়া এলাকাটি।

জানা গেছে, শিবপুরসহ নরসিংদীর স্থানীয় কৃষকরা একসময় মুন্সীগঞ্জ ও সিলেট থেকে সবজির চারা সংগ্রহ করে চাষ করতেন। কিন্তু বিগত ২০ বছর ধরে নিজেদের প্রয়োজনে চারা উৎপাদন শুরু করেন এখানকার কৃষকরা। এখন প্রায় ৩০ বিঘা জমির উপরে চারা উৎপাদন করা হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো। এ চারা বিক্রি করে অনেকে লাখপতিও হয়েছেন। চলতি মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে শুরু হওয়া অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি চলবে আশ্বিন মাসজুড়ে। এ চার মাস সময়কালে একই পলিথিনে মোড়ানো সেড করে চার-পাঁচবার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারেন তারা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে বীজতলা প্রস্তুত করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোর বীজ বপন করা হয়। ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। ভালো মানের প্রতিটি ফুলকপির চারা ৮০ পয়সা থেকে এক টাকা এবং বাঁধাকপির চারা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।

তারা জানান, নরসিংদী জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে কৃষকরা এসে এসব চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন নরসিংদী জেলাসহ কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, নেত্রকোনা, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল এলাকার কৃষকরা সবজি চারা ক্রয় করতে আসেন। চারা ক্রেতারা জানান, এখান থেকে চারা নিয়ে রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। সেজন্য তারা দূর থেকে চারা নিতে আসেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার কুন্দারপাড়া বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন এলাকার মাঠজুড়ে পলিথিনে মোড়ানো বীজতলা। বিভিন্ন জেলা থেকে চাষিরা আসছেন চারা কেনার জন্য। চারার মালিকরা তুলছেন বিক্রয়ের জন্য। কেউ কেউ বীজতলার উপরের পলিথিন খুলে উš§ুক্ত করে দিচ্ছেন। আবার কেউ আগাছা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নার্সারি মালিক শওকত আলী বলেন, ‘আমি বিগত ১৪ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। চারা বিক্রি করে ভালো আছি। দেড় বিঘা জমিতে অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে প্রতি বছর লাখ দুয়েক টাকা জমাতে পারছি।’ এবার ৩০ বিঘার জমির উপরে প্রায় ১৫০ জন কৃষক চারা উৎপাদন করেছে বলে জানান তিনি।

অপর এক নার্সারি মালিক ফজলুল হক জানান, আগে মুন্সীগঞ্জ থেকে চারা এনে সবজি চাষ করতেন। সেখান থেকে দেখে চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপির বীজ বপন করে চারা উৎপাদন পর্যন্ত (এক মাস) অন্তত এক লাখ টাকা ব্যয় হয়। তবে এতে তিন লক্ষাধিক চারা উৎপাদন করে আনুষঙ্গিক খরচ বাদে কমপক্ষে দুই লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়। পরবর্তীতে ওই চারা অন্য কৃষক কিনে অন্তত তিন মাস পরিচর্যা করে বিক্রি উপযোগী করে তোলেন। এ নার্সারি মালিকদের উপজেলা কৃষি অফিস বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলেও জানান তারা। শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক বলেন, ‘উপজেলার কুন্দারপাড়া এলাকায় আট হেক্টর জমিতে সবজির চারা উৎপাদন হয়ে থাকে। সবজির নার্সারি লাভজনক ব্যবসা। কৃষি বিভাগ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও চারার গুণগত মান বজায় রাখতে পরামর্শ দিয়ে থাকে। নতুন নতুন জাত ও আগাম সবজির চারা উৎপাদনে পরামর্শ দেওয়া হয়।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..