সারা বাংলা

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

যাত্রী ভোগান্তি চরমে

প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ: পদ্মায় তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে গত রোববার রাত ৯টার দিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এতে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পদ্মা নদী পারাপারের জন্য ঘাটে আসা যাত্রীসাধারণ।

তারা জানিয়েছেন, ফেরি বন্ধের খবর জানেন না অনেকেই। অনেক যাত্রী ঘাটে এসে ফিরে যাচ্ছেন নিজ গৃহে। অনেকে আবার মোটরসাইকেলযোগে এসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রলারে করে শিমুলিয়া থেকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে যাচ্ছেন। তবে ফেরি চলাচল বন্ধের কারণে লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের বেশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফেরি চলাচলের পথে প্রতিনিয়ত পলি আসছে। এছাড়া পদ্মার চর ভেঙে পড়ে চ্যানেল আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির তৈরি করছে প্রমত্তা পদ্মা। এতে দেখা দিয়েছে নাব্য সংকট, দেখা দিয়েছে অসংখ্য ডুবোচর।

বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, একটি চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচলের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাত সেটা চালু হবে তা বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই পদ্মার চর ভেঙে পলি এসে জমছে। এছাড়া খননকালে অতিরিক্ত পলি জমা হচ্ছে ফেরি চলাচলের পথে। ড্রেজিং করেও সংকট নিরসন করা যাচ্ছে না। একটি চ্যানেল দিয়ে ফেরি চালুর জন্য পরিকল্পনা চলছে। তবে এটি দিয়ে পরীক্ষামূলক ফেরি চালুর পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক সাফায়েত আহমেদ (বাণিজ্য) জানান, চ্যানেলে বিপর্যয় হওয়ায় গত রোববার রাত ৯টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেরি বন্ধ আছে। কবে ফেরি চালু হবে এ বিষয়ে বলা যাচ্ছে না। সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে অন্য রুট ব্যবহার করার জন্য।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) হিলাল উদ্দিন জানান, শিমুলিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায় আছে ১০০টির মতো পণ্যবাহী যানবাহন। এর মধ্যে বেশিরভাগই পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান। যাত্রীবাহী গাড়ি কিছু ঘাটে এসে আবার অন্য রুটে ফিরেও যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

শিমুলিয়া ঘাট এলাকার ট্রাকচালকরা জানান, পাঁচ-ছয় দিন ধরে এই ঘাটে অবস্থান করছেন তারা। কবে ফেরি চালু হবে কিছুই জানা যাচ্ছে না। অন্য রুট ব্যবহার করার ভাড়াও তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..