বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

শিল্প খাতের কর্মসংস্থানের ৮৫ ভাগই এসএমই’র অবদান

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৯৮ ভাগের বেশি এসএমই। ৮৪ ভাগের বেশি এসএমই প্রতিষ্ঠান গ্রামে অবস্থিত এবং ৮০ ভাগের বেশি কুটির শিল্প। শিল্প খাতের কর্মসংস্থানের ৮০-৮৫ শতাংশ এসএমই খাতের অবদান। গতকাল এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ‘বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়ন: জার্মানির অভিজ্ঞতা গ্রহণ’ শীর্ষক ওই গবেষণা কর্মটি সম্পন্ন করে এসএমই ফাউন্ডেশন। এ গবেষণায় সহায়তা করে জার্মান সংস্থা এফইএস-এর বাংলাদেশ কার্যালয়।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনলাইনে আয়োজিত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনটজ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন এফইএস বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি টিনা ব্লুম।

গবেষণা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এমএ বাকী খলীলী। প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা করেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক তৈয়বুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৯৮ ভাগের বেশি এসএমই। ৮৪ ভাগের বেশি এসএমই প্রতিষ্ঠান গ্রামে অবস্থিত এবং ৮০ ভাগের বেশি কুটির শিল্প। শিল্প খাতের কর্মসংস্থানের ৮০-৮৫ শতাংশ এসএমই খাতের অবদান। অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান বিবেচনায় বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ জার্মানির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে কাজে লাগাতে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা উল্লেখ করা হয়। তা হলোÑঅর্থায়ন স্বল্পতা, ঋণের সুদের উচ্চ হার, দক্ষ-স্বল্পদক্ষ কর্মীর স্বল্পতা, নতুন কর্মী কাজে না লাগানো, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ না থাকা, কার্যকর ব্যবসার নেটওয়ার্ক না থাকা, তথ্যের অভাবে উৎপাদন ও বিপণন বাধাগ্রস্ত হওয়া, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, এসএমই ক্লাস্টারগুলোতে জায়গার স্বল্পতা প্রভৃতি।

এসব বিবেচনায় গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে জার্মানি থেকে যেসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুপারিশ করা হয়; তা হলো নীতি সহায়তা এবং কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এসএমই খাতকে সচল রাখা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি ব্যবহার বিবেচনায় এসএমই খাতের শ্রেণি বিন্যাস করা, ভিন্ন ভিন্ন এসএমই খাতের জন্য আলাদা নীতি সহায়তা, এসএমই খাতের জন্য সহায়ক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এসএমই খাতের কারিগরি উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ, শক্তিশালী কারিগরি শিক্ষা এবং শিক্ষানবিস ব্যবস্থা চালু, সার্বজনীন মজুরি ব্যবস্থা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বেশি মনযোগ, ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজের সঙ্গে মিলিয়ে ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন, বিশ্ব প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি প্রভৃতি।

অধ্যাপক এমএ বাকী খলীলীর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাদলের অন্য সদস্যরা হলেনÑড. মো. জামাল উদ্দিন, ড. মো. শরিয়ত উল্লাহ এবং ড. মো. তারেক। এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে এ গবেষণা তদারকি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সাবেক ডিন শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক এম মাহবুব রহমান।

অনুষ্ঠানে ড. গওহর রিজভী বলেন, এসএমই খাতের ওপর নির্ভর করে জার্মানির এগিয়ে নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। বাংলাদেশের মোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ শতাংশের বেশি এসএমই প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতিতে মাত্র ৪০ শতাংশ অবদান প্রমাণ করে, এ খাতের দক্ষতা উন্নয়নে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই নীতিমালা ২০১৯ ও সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়ন, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও তাদের প্রতিষ্ঠানের কারিগরি উন্নয়নে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..