বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

শিল্প খাতের চাহিদামাফিক পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী করতে হবে

ডিসিসিআই ওয়েবিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড-১৯ মহামারির সংকট উত্তরণ ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে শিক্ষা কারিকুলামের সংস্কার ও শিল্প খাতে চাহিদামাফিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা গ্রহণ করে বিদেশি বিনিয়োগ সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে হবে। গতকাল ডিসিসিআই আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তারা।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গতকাল ‘কভিড-১৯-পরবর্তী বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রস্তুতি: বিনিয়োগ ও দক্ষতা’ বিষয়ে এক ওয়েবিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত আলী সম্মানিত অতিথি ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, কভিড-১৯ মহামারির কারণে সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়েছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চার দশমিক দুই শতাংশ হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১১ মাসে গত অর্থবছরের তুলনায় মোট রপ্তানি ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া পুঁজির স্বল্পতা ও বাজার সংকোচনের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প, এসএমই খাত এবং ইনফরমাল খাতে বেকারত্বের সৃষ্টি হয়েছে।

ডিসিসিআই সভাপতি জানান, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ২০ শতাংশ আসে শিল্প খাত থেকে, তবে পর্যাপ্ত শ্রমশক্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের দক্ষ শ্রমিকের যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আরও বলেন, প্রবাস থেকে ফেরত আসা কর্মী এবং স্থানীয় শিল্প খাত থেকে কর্ম হারানো শ্রমিকদের শিল্প খাতে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা প্রদান এবং প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করা আবশ্যক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে সরকারি পলিটেকনিক্যালগুলোয় ভর্তি হওয়ার জন্য বিদ্যমান বয়সের যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তা তুলে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নতুন গ্র্যাজুয়েট এবং বিদেশফেরত কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, দেশের বেসরকারি খাত ও বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন, যার মাধ্যমে শিল্প খাতের চাহিদামাফিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কলেজগুলোয় প্রায় ২৮ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে, কিন্তু আমাদের শিল্প খাত তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারছে না। এক্ষেত্রে তিনি নতুন গ্র্যাজুয়েটদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে আমাদের শ্রমিকের দক্ষতার অভাব পূরণে ‘স্কিল ম্যাপিং’ নিয়ে কাজ করছে। 

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে সরকার দেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। এছাড়া তিনি দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া গ্র্যাজুয়েটদের শিল্প খাত ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোরারোপ করেন।

তিনি জানান, আমাদের শিল্প খাত চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ না থাকায় প্রতিনিয়ত আমাদের বিদেশিদের নিয়োগদানের জন্য বিডার পক্ষ থেকে অনুমতি দিতে হয় এবং এ অবস্থা উত্তরণে আমাদের শিক্ষা কারিকুলামকে শিল্পমুখী ও যুগোপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও জানান, কভিড-পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা চীন থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে। এ অবস্থায় সেসব প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের লক্ষ্যে বিডা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন করা সম্ভব হলে আরও বেশি হারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, বিডা ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বর্তমানে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ১৮টি সেবা প্রদান করছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..