মত-বিশ্লেষণ

শিশুদের ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে

ইউনিসেফের অংশীদার বেসরকারি সংগঠন ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ পরিচালিত একটি নিরাপদ আশ্রয়ে যে ২০ শিশু রয়েছে, তাদেরই একজন শাহিনা। আশ্রয়কেন্দ্রটিতে ইন্টারনেট নেই, কিন্তু শিশুরা টেলিভিশনে দেখানো ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে পারছে। তাছাড়া শিশুদের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। নাম মনোয়ারা। কাছেই থাকেন এবং ফোন করলেই চলে আসেন।

শিক্ষক মনোয়ারা বলেন, ‘আমি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিই। নোট লিখতে সহায়তা করি এবং প্রতিদিন বাড়ির কাজ (হোমওয়ার্ক) দিই, যাতে স্কুল চালু হলে তারা অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে।’

‘তবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শারীরিকভাবে তাদের সুস্থ রাখা,’ বলেন তিনি।

সুরক্ষা ঘরে ও বাইরে: সমাজকর্মী শাহনাজ রহমান বলেন, এ আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুরা তাদের প্রয়োজনীয় মনঃসামাজিক সেবা পাচ্ছে, এটি অপরিহার্য। এমনকি এ লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে যখন আশ্রয়কেন্দ্রের অনেক কর্মীই সেখানে আসতে পারছেন না, তখনও তারা সেবাটি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শিশুরা কী করছে, সেটা জানার জন্য আমি দিনে অন্তত চারবার ফোন করি। আমি তাদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করি এবং কভিড-১৯ মহামারি সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করি, যাতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি না হয়।’ পাশাপাশি ইউনিসেফ লিফলেট দিয়েছে, যেখানে এ ভাইরাস সংক্রমণ রোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। এছাড়া ইউনিসেফ থেকে বাড়তি সাবান ও জীবাণুমুক্ত করার সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।

পরস্পরকে উৎসাহিত করে শিশুরা: শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে না পারার জন্য শাহনাজ রহমানের খারাপ লাগে। তবে তিনি জানেন যে, দুই আবাসিক তত্ত্বাবধায়ক, দুই রাঁধুনি ও এক নারী নিরাপত্তা কর্মীর কাছ থেকে শিশুরা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে। আর আশ্রয়কেন্দ্রের এ কর্মীরা (স্টাফ) সমাজকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যেই রয়েছেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে শিশুদের ওপর নজর রাখছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুরা ঘরের মধ্যে দলবদ্ধ হয়ে খেলাধুলা ও লেখাপড়ায় নিজেদের ব্যস্ত রাখছে। এভাবে তারা একে অপরকে সহায়তা করছে।’

১৬ বছরের হাসানের ভাষ্য, ‘আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, বন্ধুদের সঙ্গে দেখাও হচ্ছে না। কিন্তু এখানে আমরা নিরাপদ বোধ করছি। আমরা সাবধানে রয়েছি এবং একে অপরকে সহায্য করার চেষ্টা করছি। এখানে বড়রা ছোটদের উপদেশ ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে এবং আমরা পরস্পরকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করি।’

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..