মত-বিশ্লেষণ

শিশুদের টিকাদান যেন ব্যাহত না হয়

টিকা প্রাপ্তি ও গ্রহণের পরিস্থিতি উন্নয়নে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি তুলে ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, গ্যাভি বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ চলাকালে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদিও কভিডের কারণে ব্যাহত টিকাদান সেবা কার্যক্রম আবার চালু করতে শুরু করা হয়েছে, তা সত্ত্বেও লাখ লাখ শিশু প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিতে রয়ে গেছে। মহামারির প্রথম দিকের মাসগুলোয় টিকাদান সেবা ব্যাহত হতে শুরু করলেও ২০২০ সালের জুনে প্রাক-কভিড-১৯ পর্যায়ে বাংলাদেশ রুটিন টিকাদান পরিষেবা আবার শুরু করে এবং নিয়মিতভাবে এই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া দেশটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সফলভাবে হাম ও রুবেলার গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যার আওতায় তিন কোটি ৬০ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে এবং এতে কভিড-১৯-এর কারণে বাড়তি যে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল, তা সামাল দেয়া গেছে। এখন বাংলাদেশে যখন কভিড-১৯-এর তৃতীয় ও আজ অবধি সবচেয়ে বড় ঢেউ চলছে, সে সময় শিশুদের টিকাদানের এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রাখার জন্য কাজ করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধ্যানম ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, ‘আমরা যদি সব দেশের জন্য টিকার সুষ্ঠু প্রাপ্তি এবং এগুলো সরবরাহের জন্য শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা নিশ্চিত করতে পারি, কেবল সেক্ষেত্রেই তা কভিড-১৯ মহামারির সমাপ্তি ঘটাতে সহায়তা করবে। আর আমরা যদি হাম, হলুদ জ্বর ও ডিপথেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগের একাধিক প্রাদুর্ভাব এড়াতে চাই, তাহলে বিশ্বের প্রতিটি দেশে যাতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম সেবা অব্যাহত থাকে, তা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’

ডব্লিউএইচওর এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২০ সালের পরিস্থিতির তুলনায় অগ্রগতি সত্ত্বেও জরিপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ৩৭ শতাংশ এখনও তাদের নিয়মিত টিকাদান পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছে।

গণটিকাদান কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। নতুন তথ্য অনুসারে, বর্তমানে ৫০টি দেশে জীবনরক্ষার ৬০টি টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, যা প্রায় ২২ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে (যাদের বেশিরভাগই শিশু) হাম, হলুদ জ্বর ও পোলিওর মতো রোগের ঝুঁকিতে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এই ৫০টি দেশের অর্ধেকের বেশি আফ্রিকা মহাদেশের, যা গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান পরিষেবা প্রাপ্তিতে মানুষের দীর্ঘদিনের বৈষম্যকে তুলে ধরে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..