প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শিশুদের নিউমোনিয়া থেকে বাঁচান

সুনামগঞ্জে গত এক সপ্তাহে ছয় শতাধিক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শেয়ার বিজসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এ খবর স্বভাবতই আমাদের উদ্বিগ্ন করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় এ ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ শিশুদের সহজেই আক্রান্ত করতে পারে। ঋতু পরিবর্তনে সৃষ্ট বিরূপ আবহাওয়াও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সুনামগঞ্জ ছাড়াও নওগাঁ, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে শিশুদের নিউমোনিয়াসহ ডায়রিয়া ও জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে খবর মিলছে।
ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে যে কোনো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এত শিশুর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়া পরিবর্তন মূল কারণ হয়ে থাকতে পারে। অভিভাবকদের অসাবধানতা আর অসচেতনতাও কোনো অংশে কম দায়ী নয়। দিনে অতিরিক্ত গরম ও রাতে ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারায় অল্প বয়সীরা রোগের শিকার হচ্ছে। এ নাজুক সময়ে শিশুদের সঠিক পরিচর্যায় অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে। পঁাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে নিউমোনিয়ায়। এতে মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। বাংলাদেশের মতো স্বল্প আয়ের দেশে সমস্যাটি আরও প্রকট। এজন্য সরকারকেও গুরুত্ব দিয়ে বিশেষত প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে এসব রোগের কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।
দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই অবশ্য শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাব বিদ্যমান। রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সরকারিভাবে জোগানো ওষুধের সংকট। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণেও রয়েছে ব্যর্থতা। যেমন, কিছুদিন আগেও নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও) কর্তৃক এর চিকিৎসা পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োগ নিয়ে একটি অনুসন্ধান চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, নীতিমালার সামান্যই অনুসরণ করছেন দেশের চিকিৎসকরা। রোগের তীব্রতা নির্ণয় না করেই নাকি উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন তারা। এতে আক্রান্ত শিশুর অবস্থা আরও জটিল হচ্ছে। রক্তসহ দরকারি অন্যান্য পরীক্ষা না করেও আক্রান্ত শিশুর ব্যবস্থাপত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক লিখছেন তারা। শিশুদের নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকে। এতে রোগী সুস্থ না হলে দ্বিতীয় কোনো ওষুধ কাজে আসে না। আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত। দেশের একশ্রেণির চিকিৎসক নিজেদের আর্থিক সুবিধার কারণে স্বল্পমাত্রার পরিবর্তে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করছেন বলে অভিযোগ হালকা করে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের চর্চা বন্ধে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত ওষুধ ও শয্যা, স্যানিটেশন আর দক্ষ কর্মীর ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগীরা যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সর্বোপরি, শিশুদের নিউমোনিয়ার প্রকোপ থেকে বাঁচাতে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে পর্যাপ্ত প্রচারণা চালাতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে গণমাধ্যমকেও।