প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শিশুদের পড়ালেখা নির্বিঘ্ন করতে পদক্ষেপ নিন

আজকের শিশু আগামী দিনে দেশ পরিচালনার নায়ক। কাজেই তাদের দেশসেবার জন্য উপযুক্ত করে তুলতে হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষাদীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ থেকে দেশে শুরু হওয়া কভিড মহামারির কারণে মারাত্মকভাবে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হয়েছে, যা দেশের সার্বিক শিক্ষা খাতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে আসছে বৈকি। এ ক্ষতি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে যে কোনো উপায়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘দেশে পৌনে চার কোটি শিশুর পড়ালেখা ব্যাহত’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে বৈকি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মহামারির কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে তিন কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। তবে কেবল যে বাংলাদেশেই শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেই শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) প্রতিবেদন তেমনটিই বলছে। তবে বাংলাদেশে যেহেতু অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ ছিল, তাই এখানকার শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অনুমান করা যায়। এ ধরনের ক্ষতি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে কভিড সংক্রমণ বাড়লে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত সময়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়, সেক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে আরও একটু সময় ক্ষেপণের পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফের এ পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মনে করি।

কভিড সংক্রমণের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বের একেক দেশে একেক সময়ে এ ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং সব দেশে একসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা বা সব দেশে একসঙ্গে সব প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। কারণ করোনার ভয়াবহতা বাংলাদেশের চেয়েও যেসব দেশকে আরও বেশি নাড়া দিয়েছে, সেসব দেশের তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে জানা যাচ্ছে। এতে করে শিশুদের শিক্ষাজীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে বৈকি। ইউনিসেফের তথ্যমতে, শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হওয়ায় নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় ১০ বছর বয়সীদের ৭০ শতাংশ সহজ পাঠ পড়া বা বোঝার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি, যা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। এ চিত্র নিঃসন্দেহে ভাবনার বিষয়। তাই শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।