মত-বিশ্লেষণ

শিশুদের মধ্যে নিরাপদ ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা

কর্মক্ষেত্র, বাজার ও ব্যবসাকেন্দ্রিক পরিবেশ এবং কমিউনিটিতে শিশুর অধিকার রক্ষায় ব্যবসায়ী উদ্যোগ সার্বিকভাবে প্রভাব ফেলে। ব্যবসায়ী কর্মকাণ্ডে শিশু অধিকারের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত করে ইউনিসেফ।

এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো

ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ: টেকসই ব্যবসায়ী উদ্যোগ প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী উদ্যোক্তা এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাসটেইন্যাবিলিটি কর্মসূচির আওতায় কীভাবে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে সিএসআর পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

তৈরি পোশাক খাত: ইউনিসেফ বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ১০টি তৈরি পোশাক কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছে তাদের উৎপাদন কার্যক্রমে শিশু অধিকারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াসে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু তৈরি পোশাক ব্র্যান্ডও এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছে। অংশীদারিত্বের ফলে ১০টি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে শিশু অধিকারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করেছে।

শিশুদের মধ্যে নিরাপদ ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামীণফোন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ। এই অংশীদারিত্বের আওতায় অনলাইনে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়, সে বিষয়ে শিশু, বাবা-মা, শিক্ষক ও সেবাদাতারা যাতে সজাগ থাকেন, তা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা হবে।

মাদারস অ্যাট ওয়ার্ক কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মজীবী মায়েদের সহায়তা: কর্মজীবী মায়েদের জন্য বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সহায়ক হয়।

কর্মজীবী মা ও তাদের শিশুর অধিকার রক্ষায় সহায়তার জন্য সরকার ও অন্যান্য জাতীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ‘মাদারসওয়ার্ক’ শীর্ষক কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় কর্মজীবী মায়েদের জন্য সাতটি সুযোগ থাকতে হবেÑসন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা, এর জন্য সহায়ক কর্মপরিবেশ, শিশুসেবা কেন্দ্র, মাতৃত্বকালীন ছুটি, আর্থিক ও চিকিৎসা সুবিধা, চাকরির সুরক্ষা ও বৈষম্যহীনতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা।

চা বাগানের শিশু: চা বাগানে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ চা ব্যবসায়ী সমিতি এবং বেশ কয়েকটি চা উৎপাদনকারী কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ। এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে চা বাগানের বাসিন্দাদের মৌলিক সামাজিক সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।

ইন্টারনেটে শিশু: বৈশ্বিকভাবে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন শিশু। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন জগতের সঙ্গে শিশুদের সম্পৃক্ততা ক্রমেই বাড়ছে। ইন্টারনেট তথ্য পাওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম হলেও এখানে অনেক ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে অনলাইন নিরাপত্তার দিক দিয়ে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..