মত-বিশ্লেষণ

শিশুর অধিকার রক্ষা প্রত্যেকের দায়িত্ব

শিশুরা প্রতিটি ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং সেটা হতে পারে কর্মীর সন্তান হিসেবে, নিজেই কর্মী হিসেবে এবং ব্যবসায়ী পণ্য ও সেবার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ক্রেতা হিসেবে। এর পরও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম ও শিশুর অধিকারের মধ্যকার যোগসূত্রটা বুঝতে সক্ষম নয়।

শিশু অধিকারের ওপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের একটি উদাহরণ শিশুশ্রম। কর্মজীবী মায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কর্মক্ষেত্রে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোতে সহায়তা এবং একজন মা ও তার চাকরির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় আরও অনেকভাবে সহায়তা করতে পারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের গতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পেছনে আছে তৈরি পোশাক খাতের সাফল্য। এই খাতে নিয়োজিত ৩০ লাখের বেশি কর্মীর প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন শহরাঞ্চলে বসবাস করে। শহরে কাজের সুযোগ পারিবারিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে। লোকজনের শহরমুখী হওয়ার একটা কারণও এটা। অনেক সময় শিশুসন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রামে রেখে কাজের জন্য শহরে চলে আসছে মানুষ।

তুলনামূলকভাবে জোরালো আইন থাকলেও নারীদের মধ্যে মাতৃত্ব ও সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা খুব কম। নারীরা দেশের কর্মিবাহিনীর একটি বড় অংশের, কিন্তু বিদ্যমান নীতিতে তাদের সুরক্ষার জন্য বাস্তবভিত্তিক কর্মপন্থার ঘাটতি রয়েছে।

অনেক শ্রমিক তীব্র ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় থাকছেন, যেখানে মৌলিক সেবাগুলো পাওয়াই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত আয় হওয়ায় শ্রমিক পরিবারের সাধারণ চাহিদাগুলো পূরণ করা অনেক কঠিন।

অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য তাদের কাজের ক্ষেত্রে পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। তবে শ্রমিকদের বাস যেসব এলাকায়, সেখানে জীবনমানের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও অনেক কিছু করার রয়েছে। রপ্তানিকেন্দ্রিক শিল্পকারখানার উন্নতি ঘটলেও দেশীয় খাতের কারখানাগুলোয় তা একইভাবে হচ্ছে কি না, সে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে অগোচরে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি চা উৎপাদনকারী দেশের একটি হলেও এসব বাগানের কর্মীদের মৌলিক সেবাগুলো পাওয়ার সুযোগের ঘাটতি রয়েছে।

চা বাগানের শ্রমিকরা সাধারণত বিভিন্ন প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। এখানকার শিশুরা বাংলাদেশে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা শিশুদের একাংশ। এসব মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাদের মালিকের কাছ থেকেও সহায়তা আসা উচিত। মালিকপক্ষের কার্যক্রমের বড় প্রভাব রয়েছে শিশুর অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে। কর্মক্ষেত্রের কার্যক্রম ও শিশু অধিকারের মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ শুধু শিশুদের জন্য একটি ‘উন্নত বিশ্ব’ সৃষ্টির দিকেই গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠবে না, বরং পরিবারবান্ধব নীতির কারণে অনেক সুফলও বয়ে আনবে। শিশুবান্ধব নীতি শুধু শিশুদের জন্যই ভালো নয়, তা ব্যবসার জন্যও ভালো। গার্মেন্ট কারখানায় শিশুবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ছয় ধাপের কর্মসূচি নেওয়া হয়।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..