Print Date & Time : 27 January 2022 Thursday 7:49 am

শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করবেন যেভাবে

গতকালের পর

শিশুর খাবারে খেয়াল রাখুন: ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত সময়টা শিশুর জন্য খুবই সংবেদনশীল। এই বয়সে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে অন্যান্য সম্পূরক খাবার দেয়া হয়। কিন্তু সম্পূরক খাবারে স্বাদের ভিন্নতা না থাকায় একই রকম খাবার খেতে শিশুর অরুচি আসে। শিশুর হজমে সমস্যা হতে পারে, সেজন্য এ বয়সী শিশুদের খাবারে খুব একটা নতুনত্ব আনা যায় না। তবে স্বাদে ভিন্নতা আনতে অবশ্যই হালকা কিছু যোগ করা যেতে পারে।

এ ছাড়া শিশুরা যেহেতু পানি তেমন একটা পান করে না, তাই বুকের দুধের পাশাপাশি অর্ধতরল খাবার বেশি খাওয়ানো হয়। এতে শিশুর পেট বেশি সময় ভরা থাকে। সেইসঙ্গে শিশু সব ধরনের পুষ্টি উপাদানও পায়, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক বাবা-মা শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েন। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা প্রবল হয়ে দেখা দেয়। অনেক অভিভাবকই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাটি বুঝতে পারেন না। তাই শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের বিষয়ে মা-বাবার সচেতন হওয়া খুবই প্রয়োজন। কোনো শিশু যদি সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ করে এবং মল যদি খুব শক্ত হয়ে মলদ্বারে ব্যথা সৃষ্টি করে, ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়, মাঝেমধ্যে পেটে ব্যথা হয়, পেট ফুলে থাকে, তখন মা-বাবাকে অবশ্যই বুঝতে হবে শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছে।

শিশুদের খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবার রাখুন। এতে মল নরম হয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়। কচুশাক, মিষ্টিআলুর শাক, কলমিশাক, পুদিনাপাতা, পুঁইশাক, মুলাশাক, ডাঁটাশাক, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া প্রভৃতিতে প্রচুর আঁশ রয়েছে। পানি খাবার হজমে সহায়তা করে। বেশি পানি খেলে মলাশয় পরিষ্কার হয় এবং শরীর নতুন করে খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে সহজে। তাই প্রতিদিন শিশুকে বেশি করে পানি খাওয়াতে হবে। শিশু পানি খেতে না চাইলে শরবত, তাজা ফলের রস বা স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। অনেক শিশুরই ফাস্ট ফুড ও মাংসজাতীয় খাবার খুবই প্রিয়। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধের জন্য শিশুকে এই ধরনের খাবার কম দেয়া উচিত। আপনার শিশু আপনার ভবিষ্যৎ, তাই শিশুর প্রতিপালনে মা-বাবার সচেতনতা খুবই জরুরি। [শেষ]

ইসরাত জাহান

পুষ্টিবিদ