মত-বিশ্লেষণ

শিশুর বিকাশে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সমান দায় নিতে হবে

প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা থেকেই কেবল তারা বঞ্চিত হয় না, ঘরেও তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ থাকে না। ২০১৩ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মাত্র আট দশমিক আট শতাংশের বাড়িতে তিনটি বা তার বেশি বই থাকে। আর তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে মাত্র ১৩ দশমিক চার শতাংশ শিশু শৈশবের প্রারম্ভিক শিক্ষা পায়।

সর্বোপরি বাংলাদেশে ছোট শিশুদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ও উপকরণের অভাব রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক এলাকায় সুযোগ-সুবিধা খুবই কম এবং মানসম্মত শিক্ষক ও শিক্ষার পরিবেশ না থাকাটাও একটা চ্যালেঞ্জ। ইউনিসেফের সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে পাড়াভিত্তিক চার হাজার কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন ইসিডি সেবা দেওয়া হয়

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ইউনিসেফের। সরকারের আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ইউনিসেফের। ইউনিসেফ এই নীতি বাস্তবায়নেও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। ফলপ্রসূ মডেল উপস্থাপন, কারিগরি সহায়তা, যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণ, নেটওয়ার্কিং ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্ব তৈরিতে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

আর্লি চাইল্ডহুড সেবা যাতে সব জায়গায় সমানভাবে দেওয়া সম্ভব হয়, সেজন্য সরকারের ১৬টি মন্ত্রণালয়কে একত্রিত করে একটি সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনিসেফ। এই নীতি বাস্তবায়নের আর্থিক পরিকল্পনা তৈরিতেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে আরও কিন্ডারগার্টেন ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফের সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে পাড়াভিত্তিক চার হাজার কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যা চা বাগান, বস্তি ও হাওরাঞ্চলের জন্য একটি মডেল হতে পারে। শিশুর শিক্ষা ও বিকাশ ত্বরান্বি^ত করতে তাদের বয়সের ভিন্নতায় আলাদা আলাদা ব্যবস্থা ও নির্দেশিকা তৈরিতে সহযোগিতা করবে ইউনিসেফ।

শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যাতে সমান দায় অনুভব করে, তা চায় ইউনিসেফ। এর জন্য সরকারের সঙ্গে কমিউনিটি, এনজিও ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লৈঙ্গিক সংবেদনশীলতা তৈরি এবং সমাজে নারী-পুরুষের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো দূর করতে কাজ করা।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..