শিশুর হাড়ের রোগ রিকেটস

রিকেটস রোগ প্রতিরোধে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি-এর জোগান নিশ্চিত করা আবশ্যক।

অনেক সময় বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, কেন একটি শিশু অকারণে অস্বস্তিতে ভুগছে অযথাই কান্নাকাটি করে, আগের মতো দৌড়াদৌড়ি করে না। একটু বড় শিশু হলে মাঝেমধ্যে পায়ের ব্যথার কথা বলে। তারপর আস্তে আস্তে দেখা গেল, তার পা দুটো বেঁকে গেছে, হাঁটাহাঁটিতে আগের চেয়ে আরও বেশি অনীহা। এভাবেই প্রকাশ পেতে পারে শিশুদের হাড়ের রোগ রিকেটস, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি-এর অভাবে হয়ে থাকে।

গর্ভবতী মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে জšে§র পর শিশুর শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেয়। এর থেকে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় এবং শিশু খিঁচুনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে শিশু ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের অভাব থেকে রিকেটস রোগে আক্রান্ত হয়। যেকোনো কারণে শিশুর শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রার তারতম্যের ফলে প্রথমে হাড় নরম হয়ে যায়, যার ফলে পা বেঁকে যায়। কোথাও কোথাও হাড় বেড়ে চওড়াও হয়ে যায়, মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, হাঁটা শুরু করতে দেরি হয়। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অনেকের দাঁত উঠতে দেরি হয়, মাথা বড় দেখায়, বুকের খাঁচা অস্বাভাবিক রূপ নেয়, পরবর্তী সময়ে যা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। জটিলতা বৃদ্ধির আগেই সঠিক চিকিৎসা না করলে হাড় ভেঙে যেতে পারে, শিশু পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। এমনকি শিশুর অকালমৃত্যুও ঘটতে পারে।

রিকেটস রোগ প্রতিরোধে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার (যেমন দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, সবুজ শাকসবজি, মটরশুঁটি, ছোট মাছ প্রভৃতি) খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি-এর জোগান নিশ্চিত করা আবশ্যক, কারণ ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ হতে সহায়তা করে।

শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি জোগান দিতে দরকার নিয়মিত উম্মুক্ত ত্বকে সূর্যালোক লাগানো এবং বাইরে খেলাধুলা। কারণ ডিমের কুসুম, মাশরুম ও বিশেষ কিছু তৈলাক্ত মাছ ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি থাকে না বললেই চলে।

সচেতনতার সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের পরও যদি শিশুর শরীরে রিকেটসের কোনো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধের মাধ্যমে রিকেটস সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

ডা. রবি বিশ্বাস

শিশু হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ

সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা শিশু হাসপাতাল

অনেক সময় বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, কেন একটি শিশু অকারণে অস্বস্তিতে ভুগছে অযথাই কান্নাকাটি করে, আগের মতো দৌড়াদৌড়ি করে না। একটু বড় শিশু হলে মাঝেমধ্যে পায়ের ব্যথার কথা বলে। তারপর আস্তে আস্তে দেখা গেল, তার পা দুটো বেঁকে গেছে, হাঁটাহাঁটিতে আগের চেয়ে আরও বেশি অনীহা। এভাবেই প্রকাশ পেতে পারে শিশুদের হাড়ের রোগ রিকেটস, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি-এর অভাবে হয়ে থাকে।

গর্ভবতী মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে জšে§র পর শিশুর শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেয়। এর থেকে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় এবং শিশু খিঁচুনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে শিশু ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের অভাব থেকে রিকেটস রোগে আক্রান্ত হয়। যেকোনো কারণে শিশুর শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রার তারতম্যের ফলে প্রথমে হাড় নরম হয়ে যায়, যার ফলে পা বেঁকে যায়। কোথাও কোথাও হাড় বেড়ে চওড়াও হয়ে যায়, মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, হাঁটা শুরু করতে দেরি হয়। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অনেকের দাঁত উঠতে দেরি হয়, মাথা বড় দেখায়, বুকের খাঁচা অস্বাভাবিক রূপ নেয়, পরবর্তী সময়ে যা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। জটিলতা বৃদ্ধির আগেই সঠিক চিকিৎসা না করলে হাড় ভেঙে যেতে পারে, শিশু পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। এমনকি শিশুর অকালমৃত্যুও ঘটতে পারে।

রিকেটস রোগ প্রতিরোধে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার (যেমন দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, সবুজ শাকসবজি, মটরশুঁটি, ছোট মাছ প্রভৃতি) খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি-এর জোগান নিশ্চিত করা আবশ্যক, কারণ ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ হতে সহায়তা করে।

শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি জোগান দিতে দরকার নিয়মিত উম্মুক্ত ত্বকে সূর্যালোক লাগানো এবং বাইরে খেলাধুলা। কারণ ডিমের কুসুম, মাশরুম ও বিশেষ কিছু তৈলাক্ত মাছ ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি থাকে না বললেই চলে।

সচেতনতার সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের পরও যদি শিশুর শরীরে রিকেটসের কোনো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধের মাধ্যমে রিকেটস সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

ডা. রবি বিশ্বাস

শিশু হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ

সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা শিশু হাসপাতাল

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১  জন  

সর্বশেষ..