প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

  শিশুর হেড ইনজুরি

 

 

 রবিউল কমল:  শিশুরা স্বভাবতই এক জায়গায় স্থির বসে থাকতে পারে না। বন্ধুদের সঙ্গে হুটোপুটি, মারামারি তো লেগেই থাকে! এছাড়া অনেক সময় অভিভাবকের অসাবধানতার কারণে বাড়িতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যেমন হাত-পা ছিলে যাওয়া, কেটে যাওয়া ইত্যাদি। এগুলো কোনো বড় সমস্যা নয়। তবে মাথায়

আঘাত লাগলে চিন্তার বিষয়। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মাথার ভেতরে

আঘাত লেগে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

 

যেভাবে মাথায় চোট লাগতে পারে

সরাসরি আঘাত: পড়ে গেলে বা মাথায় ভারী কিছু লাগলে মাথা ফুলে যেতে পারে বা ভেতরে গভীর ক্ষত তৈরি হতে পারে।

দুর্ঘটনা ব্যতীত: এ ধরনের আঘাতের সঙ্গে পড়ে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। স্বাভাবিক অবস্থায়ও এ ধরনের আঘাত লাগতে পারে। যেমন শিশু হয়তো খুব কাঁদছে, কিছুতেই থামছে না। এ সময় তার কান্না থামাতে খুব জোরে ঝাঁকি দিলেন। এর ফলে ইন্টারনাল ইনজুরি হতে পারে, যা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। এরপরও শিশুর কান্না থামে না। এক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান করে দেখতে হবে গভীর কোনো আঘাত লেগেছে কি-না।

কত ধরনের হেড ইনজুরি হয়

প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি: মাথায় সরাসরি আঘাত লাগলে তাকে প্রাইমারি ইনজুরি বলে। ধরুন, শিশুর মাথায় যদি ভারী কোনো জিনিস পড়ে, তাহলে মাথা ফুলে যাওয়া, কেটে যাওয়া ছাড়াও মস্তিষ্কে আঘাত লাগতে পারে। ইডিমা জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্রেন ফুলে যেতে পারে। যেহেতু ব্রেন স্কাল ঠেলে বাইরে বের হতে পারে না, তাই নিচে নেমে গিয়ে স্কাইনাল ক্যানেলের মুখে আটকে যায়। একে অনেক সময় সেকেন্ডারি ইনজুরিও বলা হয়।

এক্সটারনাল ইনজুরি: মাথার ত্বকে অনেক ব্লাড ভেসেল থাকে। তাই সামান্য আঘাতে রক্ত বের হতে পারে। অনেক সময় আঘাত লাগার কারণে স্কাল্পের নিচের অংশে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ফলে মাথা ফুলে যায়।

ইন্টারনাল ইনজুরি: যদি কোনো কারণে ব্রেনের অবস্থান পাল্টে যায়, তাহলে ফ্র্যাকচারও হতে পারে। ফ্র্যাকচার সাধারণত দুই ধরনের হয়Ñডিপ্রেসড ফ্র্যাকচার (স্কালের হাড় ভেঙে ব্রেনের ভেতরে ঢুকে যায়) ও লিনিয়ার ফ্র্যাকচার (হাড়ের মধ্যে চিড় ধরে)। এছাড়া ব্রেনের ভেতর ব্লিডিংও হতে পারে। ইন্টারনাল ইনজুরি চারটি স্তরে প্রভাব ফেলতে পারেÑ

১.            কনকাশান: শিশু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। জ্ঞান থাকে কিন্তু কি করেছিল, তা মনে করতে পারে না। হয় খুব

কাঁদতে শুরু করে, না হয় অতিরিক্ত হাসতে থাকে।

২.            লেথার্জি: শিশু ঘুম ঘুম ভাব অনুভব করে। ঠিকমতো রিঅ্যাক্ট করতে পারে না।

৩.           স্টুপরু: আশপাশে হচ্ছে বুঝতে পারে না। কিন্তু ব্যথা দিলে বুঝতে পারে ও রিঅ্যাক্ট করে।

৪.            কোমা: এ পর্যায়ে কোনো জ্ঞান থাকে না। ব্যথা দিলেও বুঝতে পারে না।

এছাড়া আরও নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ আছে, যা দেখলে অবহেলা করবেন না।

 

কখন ডাক্তার দেখাবেন

1.           শিশু যদি জ্ঞান হারায়। স্কাল ফেটে রক্ত বের হলে।

2.            নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হলে। কথা বলতে বা দেখতে অসুবিধা হলে।

3.           নাক, কান বা মুখ থেকে রক্ত বের হতে শুরু করলে। অতিরিক্ত বমি করলে খিঁচুনি হলে।

আঘাত লাগার পর শিশু কোনো অস্বাভাবিক আচরণ না করলে চিন্তার কিছু নেই। মাথায় আইস প্যাক লাগাতে পারেন। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা তার ওপর নজর রাখুন।

সাংবাদিক