মত-বিশ্লেষণ

শিশুশ্রম বন্ধে সমাজের ভূমিকা প্রসঙ্গে

শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার, দেশ গড়ার কারিগর। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। যে শিশু আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে সেই শিশু আজ বঞ্চনার শিকার। কেউবা পারিবারিকভাবে অসচ্ছলতার কারণে, কেউবা সচেতনতার অভাবে। অল্প বয়সেই কঠিন শ্রমের মধ্যে নিমজ্জিত হতে দেখা যায় অনেক শিশুকে। বাসের হেলপারিতে, হোটেলের কঠিন কাজে, ইটভাঙার কাজে, রিকশা কিংবা অটো চালাতে প্রতিনিয়তই শিশুকে দেখা যায়। অথচ এসব কাজ শিশুদের নয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে শিশুশ্রম আইনত নিষেধ থাকলেও সামাজিকভাবে আমরা শিশুশ্রমকে বৈধতা দিচ্ছি। কারণ আমরাই তো একজন শিশুর রিকশায় উঠে পথ চলছি, হোটেলের কাজে লাগিয়ে দিচ্ছি, বাসের হেলপারিতে পিচ্চি বলে ডাক দিচ্ছি, গৃহস্থালিতে শিশুকে কাজের লোক বানিয়ে রেখেছি। অথচ শিশুরা কখনোই নিজ ইচ্ছায় কাজের মানুষ হতে চায় না। তারা বাধ্য হয়েই কাজে নেমে পড়ে। যে সময় শিশুদের থাকার কথা স্কুলে, সে সময় তাদের দেখা যায় বিভিন্ন আয়ের কাজে। পরিবারকে ছোট না রাখা শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ। মা-বাবার চাপের কারণে ও অভাবের তাড়নায় শিশুশ্রমের সংখ্যা আমাদের দেশে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। চাকরি এখন সোনার হরিণ; তাই লেখাপড়া করে কী হবে, আমরা গরিব, লেখাপড়ার টাকা আমাদের নেই, এমন চিন্তা-চেতনাতেও শিশুশ্রম বাড়ছে। এসব অসচেতন ধ্যান-ধারণা থেকে দেশের মানুষকে বের করতে না পারলে শিশুশ্রম কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। একমাত্র সমাজই পারে শিশুশ্রম বন্ধ করতে। শিশুশ্রমের ব্যাপারে সমাজকে সচেতন করতে হবে। সমাজের মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। সামাজিকভাবে শিশুশ্রম বন্ধের প্রয়াস নিলেই শিশুশ্রম বন্ধ হতে বেশি দিন সময় লাগবে না। আইন করে কখনোই শিশুশম বন্ধ করা যাবে না। কারণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয় না বলেই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো দিন দিন বেশি ঘটছে। যে দেশে শিশুশ্রম হয় সে দেশ কীভাবে বিশ্বের রোল মডেল হবে? শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে দেশের সরকার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিও ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুশ্রমকে না বলতে হবে। আশপাশের সব শিশুকে শ্রমে নয়, লেখাপড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তবেই আমরা শিশুশ্রমমুক্ত একটি দেশ পাব।

আজিনুর রহমান লিমন

আছানধনী মিয়াপাড়া

ডিমলা, নীলফামারী

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..