মত-বিশ্লেষণ

শিশু অপরাধী নিয়ে প্রতিবেদনে সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে

জন্ম থেকে আট বছর পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়টুকু শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক মা-বাবা প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের নিয়মগুলোর সঙ্গে পরিচিত নন। এর সঙ্গে জড়িত আছে পুষ্টি, শিক্ষা, খেলাধুলা এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা।

প্রশিক্ষণের অভাবে ছোট শিশুদের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা শনাক্ত করতে পারেন না অনেক চিকিৎসক। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে কমিয়ে আনা যায়।

যেসব শিশুর প্রাইমারি স্কুলে পড়ার বয়স হয়েছে, তাদের অনেকেই উচ্চ মানের শিক্ষা ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্কুলে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য টয়লেট সুবিধা নেই। এ বয়সি শিশুদের মধ্যে যারা স্কুলে যায় না, তাদের বেশির ভাগের বাস শহরের বস্তিগুলোয়, অথবা দুর্গম বা দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে। 

বাংলাদেশে প্রাথমিক স্কুল পার করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর হার প্রশংসনীয়। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে ঝরে পড়ে বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী। মেয়েশিশুরা নিরাপত্তার অভাব এবং যৌন হয়রানির কারণে মাঝেমধ্যে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও রয়েছে অনেক ঘাটতি।

শিশুশ্রমে জড়িত আছে ১৭ লাখ শিশু। প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বয়স ছয় থেকে ১১ বছরের মধ্যে। তাদের বেশিরভাগই ছেলেশিশু। স্বল্প আয়ের পরিবারের মেয়েশিশুরা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে থাকে এবং তাদের সঠিক সংখ্যা জানা কঠিন। 

বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার আগের তুলনায় কমেছে, কিন্তু সমাজে এ প্রথা এখনও ব্যাপকভাবে প্রচলিত। বিবাহিত কিশোরীরা প্রায়ই পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে।

কিশোর-কিশোরীদের জন্মহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি। বয়ঃসন্ধিকাল পেরোচ্ছে এমন শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও তাদের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা। দেশের উন্নয়ন নীতিমালায় প্রতিফলিত হতে হবে কিশোর-কিশোরীদের কথা ও অভিজ্ঞতা। সমাজ বদলেও চাই তাদের পদার্পণ।

শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিশু বা শিশু অপরাধীদের নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোয় সংবেদনশীলতার অভাব আছে। এ ধরনের কাজ শিশু বিষয়ে জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলে বলেই মিডিয়াকে সচেতন করা প্রয়োজন।

শিশুদের সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজন জরুরি বিনিয়োগ। এর আওতায় আনতে হবে প্রতিবন্ধী শিশুদের, যাদের ওপর তথ্য সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা আছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা বিদ্যমান সেবাগুলো সম্পর্কে জানেন না।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..