দিনের খবর শেষ পাতা

শীতলক্ষ্যায় সেতুর নকশার কারণে আরও দুর্ঘটনার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনাস্থলের কাছে সেতুর নকশার কারণে ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি অংশ নেন। ওই স্থানে সেতুর পিলার দৃষ্টিপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দীন।

গত রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ সাবিত আল হাসান প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার পথে কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট সংলগ্ন এসকে ৩ কোস্টার জাহাজের আঘাতে ডুবে যায়।

নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মাহবুব উদ্দীন বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে সেতুর পিলার দৃষ্টিপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত যদি মাস্টার নদীর সরু চ্যানেলের কথা চিন্তা করে আগে থেকেই জাহাজটির গতি নিয়ন্ত্রণ করতেন।

নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের কাছে অনাকাক্সিক্ষত। প্রথম যখন সংবাদ পেলাম তখন মনে হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। আজকে দুর্ঘটনার বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দীন কিছুটা আভাস দিয়েছেন। তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সে তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আমাদের বক্তব্য পেশ করব।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাহবুব উদ্দীন সাহেব বলেছেন, আমার কাছেও মনে হয়েছে, গতকাল আমি ছবিটি দেখেছি। এর আগে ভিডিও ক্লিপ দেখেছি। কালকে যে সেতুর ছবিটি দেখেছি, আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত নৌরুট এটা। নদী এমনিই ছোট হয়ে আসছে নানা কারণে। সেখানে আরও বেশি ছোট করে দেয়ার ক্ষেত্রে সেতুর পিলার দুটি স্থাপন করা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক নানা পর্যায়ের লোকদের সঙ্গে কথা বলেছি। মাহবুব সাহেব বলেছেন, পিলার দৃষ্টি সীমানায় বাধা হয়ে থাকতে পারে, এটা আমি জানি না। তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, সেখানে পাশাপাশি পিলার দুটো থাকার কারণে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করব আর যেন না হয়। কিন্তু আমার আশঙ্কা ভবিষ্যতে এখানে মনে হয় আরও দুর্ঘটনা হতে পারে শুধু এই নকশার কারণে। আমরা এ বিষয়ে সেতু বিভাগের সঙ্গে কথা বলব, এটার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে যে দুর্ঘটনা হতো কালবৈশাখী ঝড় বা স্রোত বা নকশা বিভিন্ন কারণে, আমরা এগুলোর ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছি। এই ধরনের দুর্ঘটনা আমরা সড়কে দেখি, একটির সঙ্গে আরেকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ। নৌপথে আমাদের পরপর দুটি দেখতে হলো। এটাও একই ধরনের ঘটনা। যেখানে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন, ৩৫ জনের সলিল সমাধি হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ একটি হত্যা মামলা করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কার্গো ভেসেলের অনুমোদন নেই বলে কথা বলা হচ্ছে, সেই ভাসমান কথার সঙ্গে আমি যুক্ত হতে পারি না। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি, সেটার নিবন্ধন থাক আর না থাক যেহেতু সেটা ধাক্কা মেরেছে সেটা যেন আইনের আওতায় আনা হয়। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলেছি, এটা যেন দ্রুত আইনের আওতায় আসে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব। তদন্ত রিপোর্ট আপনাদের সামনে আনব। তদন্ত রিপোর্টের যেন যথাযথ প্রয়োগ ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় সে ব্যাপারে আমরা প্রস্তুত আছি।

ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারী সেতুগুলোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এগুলোর ব্যাপারে দীর্ঘদিন কাজ হচ্ছে। এখানে প্রায় ১৬ থেকে ১৭টি ব্রিজ চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু এটা নয়, আমরা যখন গোমতি দিয়ে সোনামুড়া যখন নিয়ে গেলাম সেখানে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ। সেগুলো নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, নৌপথে যেখানে যেখানে সেতুগুলো বাধা হিসেবে আছে, সেগুলো ভবিষ্যতে সরিয়ে নৌপথের যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায় সে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা তো রাতারাতি সম্ভব নয়। আমরা ধীরে ধীরে এগুলো করব।

‘মুজিববর্ষের শপথ, নিরাপদ রবে নৌপথ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল দেশে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। 

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এজেডএম জালাল উদ্দিন এতে সভাপতিত্ব করবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..